নির্যাতিত নারীদের নিয়ে কাজ করে যেসব এনজিও
নারীর প্রতি নির্যাতন শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের চাপ, হয়রানি, জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ, পাচার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানির মতো ঘটনাও একজন নারীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোথায় যোগাযোগ করলে আইনি পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা বা মানসিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএর সহায়তায় পরিচালিত ২০২৪ সালের নারী নির্যাতন জরিপের পূর্ণ প্রতিবেদন ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। জরিপে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২৭ হাজারের বেশি নারী অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্ত বিস্তৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বর্তমান বা সাবেক স্বামীর কাছ থেকে অন্তত এক ধরনের সহিংসতার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন এবং আগের ১২ মাসে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে ৪৯ শতাংশ নারীর। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, সহিংসতার শিকার অনেক নারী তাদের অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের জানান না এবং আইনি সহায়তাও নেন না।
এই বাস্তবতায় এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকা শুধু অভিযোগ গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থা ও কর্মসূচিভেদে আইনি পরামর্শ, মানসিক সহায়তা, অস্থায়ী আশ্রয়, চিকিৎসাসেবায় পাঠানো, পুনর্বাসন এবং অধিকার সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মতো সেবা পাওয়া যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠান একই ধরনের সেবা দেয় না। তাই নিজের প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য এনজিও কেন গুরুত্বপূর্ণ
সহিংসতার শিকার একজন নারীর একই সময়ে নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, আর্থিক সহযোগিতা এবং মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়াই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে জানানো এবং সম্মতির ভিত্তিতে উপযুক্ত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্যাতিত নারীদের নিয়ে কাজ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ এনজিও
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করছে। সহিংসতা ও সামাজিক অবিচারের শিকার নারী ও মেয়েদের আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থাও সংস্থাটির সেবার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার সেগুনবাগিচায় প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় রয়েছে এবং সহায়তার জন্য ০১৭১৭৩৬৩৬৪৭ নম্বরটিও প্রকাশিত আছে। জরুরি পরিস্থিতির বাইরে আইনি পথ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে এই সংস্থা একটি সম্ভাব্য যোগাযোগস্থল হতে পারে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র
আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা এএসকে বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মধ্যে আইনি সহায়তা, মধ্যস্থতা, আদালতসংক্রান্ত সহযোগিতা, মনোসামাজিক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের হাফওয়ে হোম ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সহায়তার জন্য পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনি সহায়তার জন্য ০১৭২৪৪১৫৬৭৭ নম্বরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে যোগাযোগ করা যায়।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, সংক্ষেপে ব্লাস্ট, আইনি সহায়তা ও অধিকারবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠান। নারী নির্যাতন, পারিবারিক বিরোধ এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনি পরামর্শ, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত সেবায় পাঠানোর সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। ব্লাস্টের বর্তমান হেল্পডেস্কে ০৯৬৭৮৭৭০১০২ নম্বরটি জরুরি আইনি সহায়তার জন্য প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় বিশেষভাবে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মধ্যে আইনি সহায়তা, সংকটকালীন সহযোগিতা, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি উদ্যোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ওয়েবসাইটে ঢাকার পশ্চিম আগারগাঁওয়ের কার্যালয়ের যোগাযোগ নম্বর হিসেবে ০২-৯১৪৩২৯৩ উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো নারী যদি নিজের আইনি অধিকার, পারিবারিক বিরোধ বা সহিংসতার ঘটনায় আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চান, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
নারীপক্ষ
নারীপক্ষ ১৯৮৩ সাল থেকে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সহিংসতামুক্ত জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। তাদের কার্যক্রমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার এবং সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সেবা ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মতো কাজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সহায়তাকারী সংস্থা ও সেবা সম্পর্কে তথ্যও প্রকাশ করে। ঢাকার ধানমণ্ডিতে তাদের কার্যালয় এবং ০২-৪১০২৩৯৮৫, ০২-৪১০২৩৯৮৬ ও ০২-৪১০২৩৯৮৭ নম্বরগুলো বর্তমানে প্রকাশিত রয়েছে।
ব্র্যাক
ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কার্যক্রম নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশ সহজ করার ওপর কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তার পাশাপাশি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে। ব্র্যাকের সংযোগ প্ল্যাটফর্মে উপজেলা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সেবাপ্রদানকারীদের তথ্য এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে, যা নিজের এলাকার সহায়তা খুঁজতে কার্যকর হতে পারে।
অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন
অ্যাসিড সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন বিশেষায়িত সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহযোগিতা এবং সামাজিক পুনর্বাসনসংক্রান্ত সেবা নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার হটলাইন নম্বর ০১৭১৩০১০৪৬১। অ্যাসিড সহিংসতার ঘটনায় প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি বিশেষায়িত সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
কোন এনজিও বেছে নেবেন
কোন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করবেন তা নির্ভর করবে প্রয়োজনের ধরনের ওপর। আইনি পরামর্শ বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহায়তা প্রয়োজন হলে এএসকে, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেবার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় শর্ত জেনে নেওয়া ভালো। অ্যাসিড সহিংসতার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তাও প্রয়োজন হতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথমে কী করবেন
কেউ তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকলে প্রথমে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সম্ভব হলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ ব্যবহার করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১০৯ নম্বরে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ করা যায়। সরকারি আইনি পরামর্শ ও আইনগত সহায়তাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের টোলমুক্ত হেল্পলাইন ১৬৬৯৯ ব্যবহার করা যায়।
সহায়তা চাওয়ার আগে যেসব তথ্য নিরাপদে রাখা ভালো
ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, থানায় করা অভিযোগের কপি এবং প্রাসঙ্গিক বার্তা বা ডিজিটাল যোগাযোগ নিরাপদে সংরক্ষণ করা পরবর্তী সময়ে সহায়তা চাইতে কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো তথ্য বা প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে বিশ্বস্ত আইনি সহায়তাকারী বা সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
গোপনীয়তা ও নারীর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি
সহিংসতার শিকার একজন নারী কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত অন্য কারও চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি কখন অভিযোগ করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন এবং কোন ধরনের সহায়তা গ্রহণ করবেন, এসব বিষয়ে তার মতামত ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। ভালো সেবাপ্রদান ব্যবস্থায় তার কথা বিচার না করে শোনা, গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্মতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
নির্যাতিত নারীদের সহায়তা নিয়ে ১০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. নির্যাতনের শিকার একজন নারী প্রথমে কোন এনজিওতে যোগাযোগ করবেন?
এটি তার বর্তমান প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে এএসকে, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে আগে ৯৯৯ বা ১০৯-এ যোগাযোগ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২. এনজিও থেকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া যায় কি?
কিছু সংস্থা যোগ্য সহায়তাপ্রার্থীদের বিনা খরচে বা সংস্থার নিজস্ব কর্মসূচির আওতায় আইনি সেবা দেয়। ব্লাস্ট নিজেদের বিনামূল্যের আইনি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে। তবে মামলার ধরন, আর্থিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী সেবার পরিধি পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন হলে কী করা উচিত?
এএসকের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ক্ষেত্রেও সহিংসতার শিকার নারী ও মেয়েদের জন্য সাময়িক আশ্রয় সেবার তথ্য পাওয়া যায়। যাওয়ার আগে ফোন করে জায়গা, যোগ্যতা ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। প্রয়োজনে ১০৯ থেকেও উপযুক্ত সেবাকেন্দ্রে রেফারেল সম্পর্কে তথ্য চাওয়া যায়।
৪. মামলা করতে না চাইলে কি এনজিওর সাহায্য নেওয়া যাবে?
অনেক ক্ষেত্রেই যাবে। একজন নারী শুধু নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে, নিরাপত্তার পরিকল্পনা করতে, কাউন্সেলিং নিতে বা পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করতে পারেন। সহায়তা গ্রহণ মানেই সঙ্গে সঙ্গে মামলা করতে হবে এমন নয়; কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সেটি পরিস্থিতি ও তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত।
৫. নির্যাতনের প্রমাণ কীভাবে রাখা উচিত?
প্রাসঙ্গিক নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ঘটনার তারিখ ও সময়, প্রয়োজনীয় বার্তা এবং অন্যান্য তথ্য এমন জায়গায় রাখা ভালো যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজে পৌঁছাতে পারবেন না। ডিজিটাল তথ্যের আলাদা নিরাপদ অনুলিপি রাখা যেতে পারে। তবে কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের শারীরিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
৬. ঢাকার বাইরে থাকলে কি এসব প্রতিষ্ঠানের সাহায্য পাওয়া সম্ভব?
কিছু সংস্থা দেশব্যাপী কাজ করে বা জেলা পর্যায়ের আইনজীবী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহায়তা দেয়। ব্লাস্ট দেশব্যাপী সেবার কথা উল্লেখ করেছে এবং ব্র্যাকের সংযোগ ব্যবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি সেবা খোঁজার সুযোগ রয়েছে। তাই ঢাকায় সরাসরি আসার আগে ফোন বা স্থানীয় রেফারেল ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭. মানসিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
এএসকের সহায়তা ব্যবস্থায় মনোসামাজিক পরামর্শের সেবা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে জাতীয় ট্রমা কাউন্সেলিং কেন্দ্র, আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং কেন্দ্র এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমেও নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগের আগে তারা সরাসরি এই সেবা দেয় নাকি অন্য সেবাকেন্দ্রে পাঠায়, তা জেনে নেওয়া ভালো।
৮. অ্যাসিড হামলার শিকার হলে কোথায় যোগাযোগ করা যায়?
চিকিৎসা জরুরি হলে প্রথমে নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতাল বা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। পাশাপাশি অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের ২৪ ঘণ্টার ০১৭১৩০১০৪৬১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত সহায়তার কথা উল্লেখ করে।
৯. পরিচয় গোপন রেখে সহায়তা চাওয়া সম্ভব কি?
সংস্থাভেদে পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, তবে গোপনীয়তা বজায় রাখা সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। যোগাযোগের শুরুতেই নিজের পরিচয়, ফোন নম্বর বা ঘটনার তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে তা জিজ্ঞাসা করা যায়। নিরাপত্তার বিশেষ ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি সেবাদানকারীকে পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি।
১০. ১০৯ নম্বরে কখন ফোন করা উচিত?
নারী বা শিশু নির্যাতন, হয়রানি, বাল্যবিবাহ বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহায়তা প্রয়োজন হলে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ ব্যবহার করা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এটি ২৪ ঘণ্টা চালু টোলমুক্ত সেবা। তাৎক্ষণিক জীবন বা শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করাও প্রয়োজন হতে পারে।
উপসংহার
নির্যাতনের শিকার নারীর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, নারীপক্ষ, ব্র্যাক এবং অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন বিভিন্ন ধরনের আইনি, সামাজিক, মানসিক বা পুনর্বাসন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত। নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া যেতে পারে। তাৎক্ষণিক বিপদে ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত সহায়তার জন্য ১০৯ এবং সরকারি আইনি সহায়তার জন্য ১৬৬৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।
তথ্যসূত্র
এই নিবন্ধের তথ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএর নারী নির্যাতন জরিপ ২০২৪, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে। যোগাযোগের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।

