Skip to content
Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন.png
সাধারন জিজ্ঞাসা

এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন পাওয়ার নিয়ম

সুবর্ণা পারভীন
By সুবর্ণা পারভীন
October 1, 2026

বাংলাদেশে কোনো সংস্থা যদি বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়, তাহলে শুধু একটি সাধারণ সংগঠন হিসেবে নিবন্ধিত থাকাই যথেষ্ট নয়। বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ ও সেই অর্থে প্রকল্প পরিচালনার জন্য এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন দরকার। ২০২৬ সালে আইন ও বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হওয়ায় পুরোনো পাঁচ বছরের নিবন্ধন মেয়াদ, পুরোনো কাগজপত্রের তালিকা বা আগের প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে আবেদন অসম্পূর্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনলাইন সল্যুশনে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রদর্শিত তথ্য অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা ২,৮০৪ এবং ১৯৯০–১৯৯১ থেকে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট প্রকল্পের সংখ্যা ৪০,৩৫৪। একই পোর্টালে ওই সময়ের বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। পোর্টালটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং নিবন্ধন, নিবন্ধন নবায়ন ও এন-ভিসা সত্যায়নের আবেদন গ্রহণ করছে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন কার জন্য প্রয়োজন

বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতরে বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে কোনো সংস্থা বা এনজিওকে ব্যুরোর নিবন্ধন নিতে হয়। দেশীয় সংস্থার ক্ষেত্রে তার আগে বাংলাদেশের প্রচলিত কোনো প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে সংস্থাটির প্রাথমিক নিবন্ধন থাকা দরকার। অর্থাৎ এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সাধারণত একটি নতুন সংগঠন তৈরির প্রথম ধাপ নয়; বরং বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের নিয়ন্ত্রক নিবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

২০২৬ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন ও নিবন্ধন নবায়ন সনদের মেয়াদ ১০ বছর। সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন করা থাকলে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত বৈদেশিক অনুদানের প্রতিশ্রুতিপত্রে অনুদানের পরিমাণ কমপক্ষে ৫,০০০ মার্কিন ডলার হতে হবে।

আবেদনের আগে যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন

নিবন্ধনের আগে সংস্থার আইনি পরিচয়, পরিচালনা কাঠামো এবং দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতি পরিষ্কার করা জরুরি। সংস্থার গঠনতন্ত্রে উদ্দেশ্য, সাধারণ পরিষদ, নির্বাহী কমিটি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি স্পষ্ট থাকা উচিত। ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী একই পরিবারের মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই-বোন বা সন্তানদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি একই নির্বাহী কমিটির সদস্য হতে পারবেন না। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে কমিটির গঠন এই শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

দেশীয় এনজিওর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশীয় এনজিওকে পূরণকৃত এফডি-১ ফরম, ফরম-৮ অনুযায়ী নির্বাহী কমিটির সদস্য তালিকা, সদস্যদের পাসপোর্ট আকারের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, প্রাথমিক নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নির্বাহী কমিটির তালিকা এবং নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হয়। এর সঙ্গে অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সংস্থার কার্যক্রম প্রতিবেদন, কর্মপদ্ধতি ও সাংগঠনিক কাঠামোসহ কার্যপরিকল্পনা এবং দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতিপত্রও দরকার।

এছাড়া নির্বাহী কমিটি গঠনের সাধারণ সভার সত্যায়িত কার্যবিবরণী, উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরিত তালিকা এবং সাধারণ সদস্যদের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ স্বাক্ষরিত তালিকা সংযুক্ত করতে হয়। সব কাগজে সংস্থার নাম, তারিখ, স্বাক্ষর ও সত্যায়ন মিলিয়ে দেখা জরুরি।

নিবন্ধন ফি ও ভ্যাট কত

বর্তমান এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নির্দেশনায় দেশীয় এনজিওর নিবন্ধন ফি ৫০,০০০ টাকা এবং বিদেশি এনজিওর নিবন্ধন ফি ৯,০০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা। দেশীয় এনজিওর নবায়ন ফি ৩০,০০০ টাকা এবং বিদেশি এনজিওর নবায়ন ফি ৬,০০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এসব ফি জমার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্ধারিত ভ্যাট প্রযোজ্য। সরকারি নির্দেশনায় বর্তমানে ১৫ শতাংশ অথবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ সার্কুলার অনুযায়ী ভ্যাট দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

এফডি-১ আবেদন জমা দেওয়ার ধাপ

প্রথমে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনলাইন সল্যুশনে সংস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে। এফডি-১ আবেদনের সঙ্গে বৈদেশিক অনুদানের সম্ভাব্য উৎস ও পরিমাণের প্রমাণ এবং অনুদান কীভাবে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে তার বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি প্রযোজ্য কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি ও ভ্যাট জমার ট্রেজারি চালানের প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যুরো তথ্য ও কাগজপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। আবেদন, তথ্য ও দলিল সঠিক প্রতীয়মান হলে মতামতের জন্য সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত বা সুপারিশ দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত না এলে মহাপরিচালক জমা দেওয়া আবেদনের ভিত্তিতে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অনুকূল মতামত বা সুপারিশ পাওয়া গেলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।

নিবন্ধন পাওয়া আর প্রকল্প অনুমোদন এক বিষয় নয়

এখানেই অনেক নতুন সংস্থা ভুল করে। ব্যুরোর নিবন্ধন সনদ পাওয়া মানেই সব বৈদেশিক অনুদান সরাসরি গ্রহণ ও খরচ করা যাবে এমন নয়। সাধারণ নিয়মে নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য ব্যুরোর অনুমোদন লাগে এবং প্রকল্প প্রস্তাব নির্ধারিত ফরমে জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম আছে: বছরে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৈদেশিক অনুদানের ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদন না লাগলেও প্রকল্পের কাজ ও এলাকা সম্পর্কে ব্যুরোকে আগে জানাতে হবে এবং প্রকল্প শেষে ব্যুরো তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশের বেশি প্রশাসনিক খাতে ব্যয় করা যাবে না। দুর্যোগ বা দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি ত্রাণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে যথাযথ আবেদন পাওয়া গেলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকল্প অনুমোদন ও বৈদেশিক অনুদান অবমুক্তির আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ব্যাংক হিসাব, হিসাবরক্ষণ ও পরবর্তী দায়িত্ব

বৈদেশিক অনুদান একটি নির্দিষ্ট তফসিলি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। নিবন্ধন পাওয়ার পর থেকেই হিসাবরক্ষণকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া দরকার, কারণ ব্যুরো প্রকল্প, ব্যয়, দলিল, হিসাববই ও অগ্রগতি পরিদর্শন করতে পারে। প্রকল্পের ব্যয়ের ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট নথি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয় এবং বার্ষিক হিসাব ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও পালন করতে হয়। তাই নিবন্ধনকে শেষ লক্ষ্য না ধরে একটি ধারাবাহিক নিয়মপালন ব্যবস্থার শুরু হিসেবে দেখা ভালো।

আবেদন দ্রুত ও নির্ভুল করতে ব্যবহারিক পরামর্শ

আবেদনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নথির মধ্যে সামঞ্জস্য। গঠনতন্ত্রে যে নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য ও কমিটির মেয়াদ লেখা আছে, এফডি-১, ফরম-৮, সভার কার্যবিবরণী এবং দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতিপত্রেও একই তথ্য থাকা উচিত। দাতা সংস্থার চিঠিতে অর্থের পরিমাণ, উৎস এবং সম্ভাব্য ব্যবহারের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট রাখবেন না। ট্রেজারি চালান, ভ্যাট, সত্যায়ন, স্বাক্ষর ও তারিখের ঘাটতি আছে কি না আবেদন জমার আগে আলাদা তালিকা ধরে যাচাই করুন।

কর্মপরিকল্পনায় কোন জেলায় বা উপজেলায় কাজ হবে, উপকারভোগী কারা, কী ধরনের ব্যয় হবে এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে এসব স্পষ্ট রাখা ভালো। আবেদন জমার দিন সরকারি পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নেওয়াও জরুরি, কারণ ফরম, ফি বা প্রক্রিয়াগত শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন কি সব এনজিওর জন্য বাধ্যতামূলক?

না। মূল বাধ্যবাধকতা তখনই আসে যখন কোনো সংস্থা বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করে বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। শুধু দেশীয় উৎসের অর্থে কাজ করা একটি সংস্থার ক্ষেত্রে অন্য নিবন্ধন আইন প্রযোজ্য হতে পারে, কিন্তু বৈদেশিক অনুদান গ্রহণের জন্য ব্যুরোর আইন আলাদাভাবে প্রযোজ্য হয়।

২. ব্যুরোতে আবেদন করার আগে কি অন্য কোনো নিবন্ধন দরকার?

দেশীয় সংস্থার ক্ষেত্রে সাধারণত হ্যাঁ। আইনে সংস্থাকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীনে নিবন্ধিত অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং ব্যুরোর বর্তমান চেকলিস্টেও প্রাথমিক নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন সনদ ও অনুমোদিত কমিটির কপি চাওয়া হয়।

৩. নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম বৈদেশিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি কত?

২০২৬ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া বৈদেশিক অনুদানের প্রতিশ্রুতিপত্রে অনুদানের পরিমাণ কমপক্ষে ৫,০০০ মার্কিন ডলার হতে হবে। তাই শুধু আগ্রহপত্র নয়, অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকা একটি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিপত্র প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি নির্বাহী কমিটিতে থাকতে পারেন?

২০২৬ সালের বিধিমালায় একই পরিবারের মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই-বোন বা সন্তানদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে একই নির্বাহী কমিটিতে রাখার অনুমতি নেই। আবেদন করার আগে কমিটির সদস্য তালিকা এই নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় যাচাই করা উচিত।

৫. এনজিও নিবন্ধনের বর্তমান মেয়াদ কত?

বর্তমান আইনে নিবন্ধন এবং নবায়ন সনদের মেয়াদ ১০ বছর। এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, কারণ পুরোনো অনেক নির্দেশিকায় পাঁচ বছরের তথ্য দেখা যায়। বর্তমান আবেদন বা নবায়নের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের সংশোধিত আইন অনুসরণ করাই সঠিক।

৬. নবায়নের আবেদন কখন করতে হবে?

সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়নের আবেদন করতে হবে। সময়মতো আবেদন করা থাকলে ব্যুরো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ শেষ হলেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বর্তমান আইনে রয়েছে।

৭. দেশীয় এনজিওর নিবন্ধন ফি কত?

বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশীয় এনজিওর নিবন্ধন ফি ৫০,০০০ টাকা। এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্ধারিত ভ্যাট প্রযোজ্য। অর্থ জমার আগে বর্তমান ট্রেজারি কোড ও ভ্যাটের হার সরকারি নির্দেশনা থেকে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

৮. নিবন্ধন সনদ পেলেই কি বৈদেশিক অনুদান খরচ করা যায়?

সাধারণভাবে না। নিবন্ধন হলো সংস্থার বৈদেশিক অনুদানভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদিত অবস্থান, আর নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য আলাদা প্রকল্প অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। বছরে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে বর্তমান আইনে একটি ব্যতিক্রম আছে, তবে আগাম অবহিতকরণ ও প্রকল্প শেষে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমার শর্ত রয়েছে।

৯. আবেদন কত দিনে অনুমোদিত হয়?

নিবন্ধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি নির্দিষ্ট মোট সময়সীমা উল্লেখ করা নেই। আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় মতামতের জন্য তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়। বর্তমান আইনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়েছে। তাই আবেদন করার সময় অনলাইন পোর্টালের বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং আবেদনের অবস্থা নিয়মিত যাচাই করা উচিত।

১০. আবেদন বাতিল বা বিলম্ব এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?

সব কাগজে একই তথ্য রাখা, সত্যায়ন ও স্বাক্ষর ঠিক রাখা, দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতিপত্র পরিষ্কার করা, নির্বাহী কমিটির গঠন বর্তমান নিয়মের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া এবং ফি-ভ্যাট সঠিকভাবে জমা দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালে যে সর্বশেষ চেকলিস্ট দেখানো হয় সেটি আবেদন জমার দিন আবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

তথ্য যাচাইয়ের উৎস

এই নিবন্ধনের তথ্য প্রস্তুতের সময় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিধিমালা, ২০২৬ এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বর্তমান নিবন্ধন নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। আবেদন করার আগে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ফরম, ফি, ভ্যাট এবং নির্দেশনা আবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

উপসংহার

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধনের আবেদন প্রস্তুতের সময় বৈধ প্রাথমিক নিবন্ধন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নির্বাহী কমিটির গঠন, কমপক্ষে ৫,০০০ মার্কিন ডলারের বৈদেশিক অনুদানের প্রতিশ্রুতিপত্র, পূর্ণাঙ্গ এফডি-১ আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আইনে নিবন্ধন ও নবায়ন সনদের মেয়াদ ১০ বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রকল্প অনুমোদনের বিশেষ বিধানও রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা, ফি ও ভ্যাটের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত আইনগত পরামর্শ নয়। কোনো আবেদন বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা প্রাধান্য পাবে।

🔥 Recommended For You

বৈদেশিক অনুদান আইন ২০১৬: এনজিওর বিদেশী ফান্ড আনার আইনি জটিলতা এড়াবেন যেভাবে
বৈদেশিক অনুদান আইন ২০১৬: এনজিওর বিদেশী ফান্ড আনার আইনি জটিলতা এড়াবেন যেভাবে
ছোট ব্যবসার ঋণের জন্য বাংলাদেশে কোন এনজিও ভালো
ছোট ব্যবসার ঋণের জন্য বাংলাদেশে কোন এনজিও ভালো
সুবর্ণা পারভীন
Author

সুবর্ণা পারভীন

সুবর্ণা পারভীন একজন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট রাইটার ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশের এনজিও, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি এই সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণাধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করছেন।

Follow Me
Other Articles
নারীদের এনজিও সুবিধা.png
Previous

গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীদের এনজিও সুবিধা দেয় কোন প্রতিষ্ঠানগুলো?

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন পাওয়ার নিয়ম
  • গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীদের এনজিও সুবিধা দেয় কোন প্রতিষ্ঠানগুলো?
  • নারীদের সঞ্চয় ও দলগত ঋণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
  • নারীদের জামানতবিহীন ঋণ দেয় যেসব এনজিও
  • এনজিও ঋণে নারীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কেন?
October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
« Sep    
ডিসক্লেইমারঃ আমরা কোনো এনজিও বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নই। এই সাইটের তথ্যগুলো কেবল আমরা আপনাদের জন্য সাধারণ সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করি।
Copyright 2026 — Suggestionworld24.com. All Rights Reserved.