কোন এনজিওর ঋণের সুদের হার সবচেয়ে কম?
বাংলাদেশে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি আসে, তা হলো কোন এনজিওর ঋণের সুদের হার সবচেয়ে কম? প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ একই এনজিওর সাধারণ ঋণ, কৃষিঋণ, দুর্যোগ সহায়তা ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ বা বিশেষ এলাকার ঋণের সার্ভিস চার্জ এক নাও হতে পারে। আবার কোনো বিশেষ প্রকল্পে খুব কম হারে ঋণ পাওয়া গেলেও সেই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে না।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সাধারণভাবে অনেকে এনজিও ঋণের ক্ষেত্রে ‘সুদের হার’ কথাটি ব্যবহার করলেও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত তথ্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নথিতে সাধারণত ‘সার্ভিস চার্জ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই লেখায় তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সার্ভিস চার্জের হার তুলনা করা হয়েছে।
আজকে পর্যন্ত পর্যালোচনা করা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ কিছু কর্মসূচিতে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উদাহরণ রয়েছে। অন্যদিকে এখানে পর্যালোচিত কয়েকটি সাধারণ ক্ষুদ্রঋণে ক্রমহ্রাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ দেখা যায়। তবে একটি হারের সঙ্গে আরেকটি হার তুলনা করার আগে হিসাবের পদ্ধতি, ঋণের ধরন, যোগ্যতা এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিজ্ঞাপনে বা শাখা কর্মকর্তার কথায় শুধু একটি শতাংশ শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ঋণের মেয়াদ, কিস্তির সংখ্যা, হিসাবের পদ্ধতি, বাধ্যতামূলক সঞ্চয় এবং অতিরিক্ত ফি মিলিয়ে একজন গ্রাহক বাস্তবে কত টাকা পরিশোধ করবেন, সেটিই প্রকৃত তুলনার ভিত্তি হওয়া উচিত।
তাহলে কোন এনজিওতে সবচেয়ে কম হারে ঋণ পাওয়া যায়?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ কর্মসূচিতে কম সার্ভিস চার্জের একটি উদাহরণ হলো ৪ শতাংশ। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ‘সাহস’ কর্মসূচিতে অংশীদার সংস্থার মাধ্যমে যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য সমতল পদ্ধতিতে ৪ শতাংশ নামমাত্র সার্ভিস চার্জ উল্লেখ রয়েছে। শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যেও পিকেএসএফ অর্থায়িত কিছু বিশেষ ঋণের ছোট অঙ্কে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব হার সাধারণ ক্ষুদ্রঋণের নিয়মিত হার নয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বর্তমান প্রাপ্যতা ও যোগ্যতার শর্ত প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাই “কোন এনজিও সবচেয়ে কম সুদ নেয়?” প্রশ্নের একক উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশিত বিশেষ কর্মসূচিতে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উদাহরণ পাওয়া যায়, কিন্তু এটি সবার জন্য উন্মুক্ত সাধারণ ঋণের হার নয়। সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান, ঋণের ধরন, এলাকা ও যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী হার আলাদা হতে পারে।
বুরো বাংলাদেশের ঋণের হার কত?
বুরো বাংলাদেশের প্রকাশিত ঋণতথ্য তুলনা করার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ঋণপণ্যের সার্ভিস চার্জ আলাদাভাবে জানিয়েছে। সাধারণ ঋণ, জরুরি ঋণ এবং বেশ কিছু নিয়মিত ঋণে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ২৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জ উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বুরো বাংলাদেশের সব ঋণে একই হার নেই। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্যে এসএমএপি কৃষিঋণে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ১৯ শতাংশ এবং দুর্যোগ ঋণে ১৮ শতাংশ সার্ভিস চার্জ উল্লেখ রয়েছে। একই তথ্যসূত্রে পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত শাখার সদস্য বা গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণে ১২ শতাংশ সার্ভিস চার্জের বিশেষ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। তাই বুরোর ঋণ তুলনা করার সময় ঋণের ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার শর্ত আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।
ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণের সার্ভিস চার্জ কত?
ব্র্যাকের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সদস্যদের ঋণের ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান স্থিতির ভিত্তিতে বার্ষিক ২০ থেকে ২৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ ঋণের ধরন অনুযায়ী হার পরিবর্তিত হতে পারে। নির্দিষ্ট ঋণের বর্তমান হার ও শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট ঋণপণ্যের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।
এখানে ব্র্যাক এবং ব্র্যাক ব্যাংককে এক করে দেখা উচিত নয়। ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ঋণ আলাদা ব্যবস্থা। ফলে ব্র্যাক ব্যাংকের কোনো ঋণের হার দেখে সেটিকে ব্র্যাক এনজিওর ক্ষুদ্রঋণের হার হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক হবে না।
এমআরএর নিয়ম অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণের সার্ভিস চার্জ কত?
বাংলাদেশের সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের আওতায় পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষের সার্কুলার তালিকায় ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের ‘ক্ষুদ্রঋণের সার্ভিস চার্জের হার পুনঃনির্ধারণ’ সংক্রান্ত নির্দেশনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যে ক্রমহ্রাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে ২৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উল্লেখও দেখা যায়।
এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ঋণে অবশ্যই ২৪ শতাংশ নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ প্রকল্প চাইলে তার চেয়ে কম সার্ভিস চার্জ রাখতে পারে। বাস্তবে ১২ শতাংশ, ১৯ শতাংশ, ২০ শতাংশ বা প্রকল্পভিত্তিক ৪ শতাংশের মতো কম হারও দেখা যায়।
বর্তমান প্রকাশিত কয়েকটি ঋণের হার এক নজরে
| প্রতিষ্ঠান বা কর্মসূচি | ঋণের ধরন | প্রকাশিত সার্ভিস চার্জ | প্রযোজ্যতা |
|---|---|---|---|
| পিকেএসএফ অংশীদার সংস্থা | সাহস দুর্যোগ সহায়তা ঋণ | ৪ শতাংশ, সমতল পদ্ধতির নামমাত্র হার | সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্য সুবিধাভোগী |
| শক্তি ফাউন্ডেশন | পিকেএসএফ অর্থায়িত বিশেষ ঋণ | ছোট অঙ্কে ৪ শতাংশের উল্লেখ | প্রকল্পের শর্ত ও বর্তমান প্রাপ্যতা যাচাই সাপেক্ষে |
| বুরো বাংলাদেশ | পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ সুবিধা | ১২ শতাংশ | প্রযোজ্য পার্বত্য এলাকার সদস্য বা গ্রাহক |
| বুরো বাংলাদেশ | দুর্যোগ ঋণ | ১৮ শতাংশ, ক্রমহ্রাসমান | নির্ধারিত শর্তপূরণকারী গ্রাহক |
| বুরো বাংলাদেশ | এসএমএপি কৃষিঋণ | ১৯ শতাংশ, ক্রমহ্রাসমান | ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক |
| ব্র্যাক | সদস্যদের বিভিন্ন ঋণ | ২০ থেকে ২৪ শতাংশ, ক্রমহ্রাসমান | ঋণের ধরন অনুযায়ী |
| বুরো বাংলাদেশ | সাধারণ ঋণ | ২৪ শতাংশ, ক্রমহ্রাসমান | যোগ্য সদস্য |
এই তুলনা থেকে দেখা যায়, একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ঋণপণ্যে সার্ভিস চার্জ আলাদা হতে পারে। তাই ঋণের উদ্দেশ্য যদি কৃষি, দুর্যোগ পুনর্বাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা কোনো বিশেষ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শাখায় সেই উদ্দেশ্যের জন্য আলাদা ঋণ ও শর্ত রয়েছে কি না জানতে পারেন।
২৪ শতাংশ ক্রমহ্রাসমান হার আসলে কী বোঝায়?
অনেক ঋণগ্রহীতা মনে করেন, এক লাখ টাকা ঋণে ২৪ শতাংশ হার মানে এক বছরে সরাসরি ২৪ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। ক্রমহ্রাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে হিসাবটি এভাবে করা হয় না। প্রতিটি কিস্তি দেওয়ার পর মূল ঋণের বকেয়া কমে এবং পরবর্তী সময়ের সার্ভিস চার্জ কমে যাওয়া বকেয়া টাকার ওপর হিসাব করা হয়। ফলে ক্রমহ্রাসমান ২৪ শতাংশ এবং মূল টাকার ওপর পুরো মেয়াদের জন্য সরাসরি ২৪ শতাংশ যোগ করা এক বিষয় নয়।
এই কারণেই ঋণ নেওয়ার আগে শুধু ঘোষিত হার নয়, মোট কত টাকা হাতে পাবেন এবং মেয়াদ শেষে সব মিলিয়ে কত টাকা পরিশোধ করবেন এই দুটি অঙ্ক লিখিতভাবে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
গ্রামীণ ব্যাংকের কম সুদের ঋণ কি এনজিও ঋণ?
অনেকে গ্রামীণ ব্যাংককে এনজিও হিসেবে বিবেচনা করেন, কিন্তু এটি একটি ব্যাংক। তাই এই লেখার এনজিও ক্ষুদ্রঋণের মূল তুলনায় গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কেউ গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ বিবেচনা করলে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রকাশিত বর্তমান ঋণপণ্য, যোগ্যতা, সার্ভিস চার্জ বা সুদের হার এবং পরিশোধের শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।
কম খরচের এনজিও ঋণ বাছাইয়ের কার্যকর পদ্ধতি
একটি শাখায় গিয়ে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করুন ঋণের সার্ভিস চার্জ কত এবং সেটি ক্রমহ্রাসমান নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে। এরপর ঋণের পরিমাণ, হাতে পাওয়া প্রকৃত টাকা, মোট কিস্তির সংখ্যা, প্রতিটি কিস্তির অঙ্ক এবং সব কিস্তি মিলিয়ে মোট পরিশোধযোগ্য টাকা লিখে নিন।
এরপর একই অঙ্কের ঋণের জন্য অন্তত দুই বা তিনটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব তুলনা করা ভালো। কোনো প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক সঞ্চয় থাকলে সেই অর্থ কখন তোলা যাবে সেটিও জানতে হবে। সবচেয়ে কম ঘোষিত হার থাকা ঋণ সবসময় আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক নাও হতে পারে, বিশেষ করে কিস্তির সময়সূচি আপনার আয়প্রবাহের সঙ্গে না মিললে।
ঋণ নেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন
প্রথমে নিশ্চিত করুন প্রতিষ্ঠানটির মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির বৈধ সনদ রয়েছে। ঋণের পাসবই, কিস্তির রসিদ এবং চুক্তির কপি নিজের কাছে রাখুন। সার্ভিস চার্জের পাশাপাশি ভর্তি ফি, ফরম, সঞ্চয়, বীমা বা অন্য কোনো খাতে অর্থ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চান। কোনো অঙ্ক বুঝতে অসুবিধা হলে “মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে” এই প্রশ্নটির লিখিত উত্তর চাওয়া সবচেয়ে সহজ উপায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পরিশোধ সক্ষমতা। নিয়মিত আয়, প্রয়োজনীয় পারিবারিক ব্যয়, আগে থেকে থাকা দেনা এবং জরুরি খরচ বিবেচনা করে কিস্তি নিয়মিত দেওয়া সম্ভব কি না আগে হিসাব করা উচিত। কম সার্ভিস চার্জের ঋণও অসুবিধার কারণ হতে পারে যদি কিস্তি পরিশোধের বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনা না করা হয়।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. বর্তমানে কোন এনজিওর ঋণের সুদের হার সবচেয়ে কম?
সবার জন্য উন্মুক্ত সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট এনজিওকে সবসময় সবচেয়ে কম বলা যায় না। তবে পিকেএসএফের প্রকাশিত ‘সাহস’ কর্মসূচিতে যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য সমতল পদ্ধতিতে ৪ শতাংশ নামমাত্র সার্ভিস চার্জের উল্লেখ রয়েছে। এই সুবিধা নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও যোগ্যতার শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
২. শক্তি ফাউন্ডেশনে কি ৪ শতাংশ হারে ঋণ পাওয়া যায়?
শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত তথ্যে পিকেএসএফ অর্থায়িত কিছু বিশেষ ঋণের ছোট অঙ্কে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রকাশিত এই তথ্যকে সব সাধারণ ঋণের বর্তমান হার হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বর্তমানে চালু আছে কি না, নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না এবং আপনার ক্ষেত্রে হারটি প্রযোজ্য কি না প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
৩. বুরো বাংলাদেশের সাধারণ ঋণের হার কত?
বুরো বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সাধারণ ঋণে ক্রমহ্রাসমান স্থিতির ভিত্তিতে ২৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জ রয়েছে। তবে কৃষি ও বিশেষ এলাকার কিছু ঋণে এর চেয়ে কম হার পাওয়া যায়।
৪. বুরো বাংলাদেশের ১২ শতাংশ ঋণ সবাই পেতে পারেন?
না। প্রকাশিত তথ্যে ১২ শতাংশ বিশেষ সুবিধাটি পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত শাখার সদস্য বা গ্রাহকদের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য এলাকার সাধারণ গ্রাহকের জন্য একই হার প্রযোজ্য হবে এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৫. কৃষকের জন্য কম হারে এনজিও ঋণ আছে কি?
হ্যাঁ, কিছু প্রতিষ্ঠানে কৃষিভিত্তিক বিশেষ ঋণের সার্ভিস চার্জ সাধারণ ঋণের তুলনায় কম হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বুরো বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যে এসএমএপি কৃষিঋণে ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ১৯ শতাংশ সার্ভিস চার্জ রয়েছে। কৃষিঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান যোগ্যতা, ঋণের সীমা ও পরিশোধের শর্ত যাচাই করা উচিত।
৬. ২৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কি খুব বেশি?
শুধু শতাংশ দেখে এটি বিচার করা কঠিন। প্রথমে বুঝতে হবে হারটি ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে হিসাব করা হচ্ছে কি না। এরপর মোট কত টাকা ঋণ পাবেন এবং পুরো মেয়াদে কত টাকা পরিশোধ করবেন সেটি বের করতে হবে। একই অঙ্কের ঋণের মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করলে বাস্তব খরচ বোঝা সহজ হয়।
৭. সবচেয়ে কম সুদের ঋণ নিলেই কি সবচেয়ে ভালো হবে?
অবশ্যই নয়। কিস্তির সময়, মেয়াদ, শাখার দূরত্ব, বাধ্যতামূলক সঞ্চয়, আগাম পরিশোধের নিয়ম এবং আপনার আয়ের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য কম হারের ঋণ যদি এমন কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় যা আপনার আয়প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে সেটি বাস্তবে অসুবিধাজনক হতে পারে।
৮. এনজিওর ঋণের হার যাচাই করব কীভাবে?
শাখা থেকে লিখিত ঋণসূচি বা পরিশোধ পরিকল্পনা নিন। সেখানে মূল ঋণ, সার্ভিস চার্জ, কিস্তির সংখ্যা এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ মিলিয়ে দেখুন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির সনদপ্রাপ্ত কি না যাচাই করুন।
৯. গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ কি এনজিও ঋণের মধ্যে পড়ে?
না। গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। তাই এর ঋণকে সরাসরি এনজিও ক্ষুদ্রঋণের তালিকায় রাখা উচিত নয়। তবে কম খরচের ঋণ খুঁজছেন এমন ব্যক্তি যোগ্য হলে গ্রামীণ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঋণপণ্য আলাদাভাবে তুলনা করতে পারেন।
১০. ঋণ নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কোনটি করা উচিত?
সবচেয়ে কার্যকর প্রশ্ন হলো “আমি হাতে কত টাকা পাব এবং সব কিস্তি মিলিয়ে মোট কত টাকা ফেরত দেব?” এরপর জানতে হবে কিস্তি কতদিন পরপর দিতে হবে এবং কোনো অতিরিক্ত ফি বা বাধ্যতামূলক সঞ্চয় আছে কি না। এই তিনটি তথ্য জানলে অধিকাংশ ঋণ সহজেই বাস্তব খরচের ভিত্তিতে তুলনা করা যায়।
উপসংহার
কোন এনজিওর ঋণের সুদের হার সবচেয়ে কম, এর একক উত্তর নেই। প্রকাশিত বিশেষ কর্মসূচিতে ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জের উদাহরণ রয়েছে, তবে সেই হার সবার জন্য উন্মুক্ত সাধারণ ঋণের হার নয় এবং হিসাবের পদ্ধতিও আলাদা হতে পারে। বুরো বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ সুবিধায় ১২ শতাংশ, দুর্যোগ ঋণে ১৮ শতাংশ এবং এসএমএপি কৃষিঋণে ১৯ শতাংশ সার্ভিস চার্জ উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে এখানে পর্যালোচিত সাধারণ ক্ষুদ্রঋণের কিছু উদাহরণে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান হার দেখা যায়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঋণের ধরন, হিসাবের পদ্ধতি, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ, কিস্তির সামর্থ্য এবং প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা উচিত।

