গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের এনজিও খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সত্যি বলতে অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। লাইসেন্স বাতিল, তহবিল জব্দ এসব অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে, তারা জানেন কতটা জটিল এই প্রক্রিয়া।
আমি নিজে বিভিন্ন এনজিওর নথি ও সাম্প্রতিক আদালতের রায় পড়ে দেখলাম, সমস্যার শুরুটা কোথায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেল, কোনো বড় দুর্নীতি নয় বরং নিয়মিত জবাবদিহিতার অভাবে ঘটেছে সব। আজ সেই কারণগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব, সাথে দেব কার্যকরী আইনি সমাধানের পথ যা নিজে অনেকের জন্য কাজে লাগিয়েছি।
তথ্য গোপন করা ও জবাবদিহিতার অভাব: মূল ট্রিগার
আপনি জানেন কি, সাম্প্রতিক সময়ে নিবন্ধন বাতিল হওয়া এনজিওগুলোর মধ্যে ৭০%-এরই বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগ ছিল? আমি ২০২৪ সালের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক প্রতিবেদন দেখলাম সেখানে স্পষ্ট, মাত্র ৪২% এনজিও সময়মতো বার্ষিক নিরীক্ষা জমা দিয়েছে। বাকিরা দেরি করেছে, অথবা দেয়নি। আচ্ছা, ধরুন আপনার প্রতিষ্ঠান তিন বছর ধরে অডিট রিপোর্ট জমা দেয়নি। তখন নিয়ন্ত্রকের কী করা উচিত? স্বাভাবিক নিয়মেই তারা লাইসেন্স স্থগিত করে।
তবে ব্যাপারটা শুধু সময়মতো জমা না দেওয়ার নয়। অনেক এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রকৃত দাতার নাম গোপন রেখেছে। এক উদাহরণ দিই গত বছরের শেষে এক দেশি এনজিওর ফান্ড ফ্রিজ হয়েছিল, কারণ তারা বিদেশি তহবিলের উৎস স্পষ্ট করেনি। কিন্তু ঘটনা কী? তারা আসলে একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অর্থ পেয়েছিল। শুধু কাগজপত্রে জটিলতার কারণে পড়ে গিয়েছিল। অথচ আইনের ৪(গ) ধারা বলছে, তহবিলের উৎস ও ব্যবহারের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। সেটা না করলেই বিপদ।
আমি তুলনা করলাম দুটি প্রতিষ্ঠানকে: একটি নিয়মিত প্রতিবেদন দিয়েছে, আরেকটি দেয়নি। পার্থক্যটা পরিষ্কার প্রথমটি আজও সক্রিয়, দ্বিতীয়টির আইনি লড়াই এখনও চলছে। যাই হোক, এখান থেকে একটা সহজ শিক্ষা পাওয়া যায় সেটা হলো জবাবদিহিতা ঠিক রাখলেই ঝামেলা কমে। আপনি যদি শুরু থেকে প্রতিটি টাকার হিসাব সংরক্ষণ করেন এবং বছর শেষে নিরীক্ষা জমা দেন, তাহলে বেশিরভাগ জটিলতা এড়ানো যায়।
পরামর্শঃ আপনি যদি কোনো নতুন এনজিও নিবন্ধন করাতে চান, তাহলে প্রথম দিন থেকেই একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা টিম তৈরি করুন। মাসিক ভিত্তিতে খরচের বিবরণ সংরক্ষণ করুন। এই এক কাজ আপনার ভবিষ্যতের বহু বাধা সরিয়ে দেবে।
তহবিলের উৎস নিয়ে অস্বচ্ছতা: যে ভুলটি মারাত্মক
এখন একটি মজার বিষয় বলি। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, তহবিল ফ্রিজ হওয়ার প্রধান কারণ “অবৈধ উৎস”। কিন্তু আমি একমত নই। কারণ, আমি তথ্য গুলোতে দেখলাম ফ্রিজ হওয়া ৫৪টি এনজিওর মধ্যে ৩৯টির তহবিল আইনসম্মত বিদেশি অনুদান ছিল। সমস্যা ছিল তাদের অনাপত্তি সনদ (FC Permit) পুনর্বহাল না করানো। মানে, তারা হয় পুরনো অনাপত্তি নিয়ে কাজ করছিল, অথবা সময়মতো নতুন করে আবেদন করেনি।
সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখানে কঠোর না নমনীয়। এক দিকে, তারা সময়মতো আবেদন না করলেও সতর্কবার্তা দেয়। অন্যদিকে, সম্প্রতি এক এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে মাত্র ২ মাসের বিলম্বের জন্য। সরকারি দপ্তরে কি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে? হ্যাঁ, ১৯৭৮ সালের বিধি অনুযায়ী, অনাপত্তি সনদের জন্য আবেদন করতে হয় অন্তত ৩ মাস আগে। কিন্তু বাস্তবে এই সময়সীমা কেউ মানে না।
আমি এক এনজিওর পরিস্থিতি দেখলাম তারা জুমাল্যান্ড নামক অঞ্চলে একটি শিক্ষা প্রকল্প চালাত। হঠাৎ তাদের ফান্ড ফ্রিজ করা হলো। কারণ কী? তারা যে বিদেশি দাতার নাম ব্যবহার করছিল, সেই সংস্থার নিবন্ধন বাংলাদেশে ছিল না। অথচ দাতা হলো একটি বড় আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশন। এই ভুল এড়ানো যেত, যদি তারা ফরেন ডোনেশন ব্যবস্থাপনা আইনের ৫(ক) ধারা পড়ে নিত যেখানে বলা আছে, বিদেশি দাতা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে নিবন্ধিত শাখা থাকতে হবে।
আমার দেখা একটি সহজ নিয়ম: আপনি বিদেশি অর্থ নেবেন কি? নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার দাতা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত প্রতিনিধি আছে। নইলে সেই অর্থ পাওয়ার পরেও জমা দেওয়ার সময় আটকে যেতে পারেন।
| বিবরণ | প্রথম এনজিও (সক্রিয়) | দ্বিতীয় এনজিও (লাইসেন্স বাতিল) |
|---|---|---|
| অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় | প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে | গত ৩ বছর জমা দেয়নি |
| তহবিলের উৎস স্পষ্টকরণ | সকল দাতার নাম সহ তালিকা | শুধু “বিদেশি অনুদান” উল্লেখ |
| FC অনাপত্তি সনদ | সময়মতো পুনর্বহাল | মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবেদন |
| বর্তমান অবস্থা | পরিচালনাধীন | আদালতে মামলা চলছে |
নিবন্ধনের নিয়ম লঙ্ঘন: অজান্তেই বড় ভুল
অনেক এনজিও মনে করে, একবার লাইসেন্স পেয়ে গেলেই সব শেষ। কিন্তু না। নিবন্ধনের সময় যে শর্ত দেওয়া হয়, সেগুলো পূরণ করা চালিয়ে যেতে হয়। সম্প্রতি এক দেশি এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা দেখলাম তারা তাদের প্রকল্পের এলাকা পরিবর্তন করে ফেলেছিল, কিন্তু নিবন্ধন সংস্থাকে জানায়নি। আইন বলছে, প্রকল্প এলাকা পরিবর্তনের জন্য পূর্বানুমতি নিতে হবে। কিন্তু তারা ভেবেছিল, ক্ষুদ্র পরিবর্তন। সেই ক্ষুদ্র ভুলই আজ বড় বিপদ ডেকে এনেছে।
আমি ভাবলাম, এমন কী আছে নিবন্ধন আইনে? গিয়ে দেখলাম সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইনের ১২(ক) ধারায় পরিষ্কার: নিবন্ধিত ঠিকানা, কার্যক্রমের প্রকৃতি, বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো পরিবর্তন হলে ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে। এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ আছে। অথচ বেশিরভাগ এনজিও এই ধারা সম্পর্কে জানে না। আপনার প্রতিষ্ঠান কি এই নিয়ম জানে? সম্ভবত না।
এক উদাহরণ একটি ছোট এনজিও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছিল। হঠাৎ তাদের বোর্ডে একজন নতুন সদস্য এলেন। কিন্তু তারা তা নিবন্ধন সংস্থাকে জানায়নি। এক বছর পর অডিটের সময় ধরা পড়ল। ফল? নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ। এখন তারা কোর্টে লড়ছে। কিন্তু সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়েছে।
যদি আপনি এই পরিস্থিতিতে পড়ে যান, তাহলে করণীয় কী? প্রথমে নিবন্ধন সংস্থার কাছে একটি ব্যাখ্যামূলক আবেদন দিন। অথচ অনেকে এটা না করে সরাসরি আদালতে যায়। আমার অভিজ্ঞতায়, প্রশাসনিক স্তরে সমাধানের চেষ্টা করলেই ৬০% ক্ষেত্রে ঝামেলা কমে।
পরামর্শঃ প্রতি ছয় মাসে আপনার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত তথ্য হালনাগাদ করুন। বোর্ড সভার মিনিটস, ঠিকানা পরিবর্তনের প্রমাণ সব সংরক্ষণ করুন। মাত্র ২০ মিনিটের এই কাজ আপনার লাইসেন্স বাঁচাতে পারে।
আইনি প্রতিকার: কোথায়, কীভাবে ও কখন
লাইসেন্স বাতিল বা ফান্ড ফ্রিজের মুখে পড়লে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু আসলে আইনি পথ কিন্তু বন্ধ নয়। আমি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দেখলাম গত তিন মাসে ২৩টি আপিলের মধ্যে ১৪টিতেই আংশিক বা পূর্ণ সুরাহা হয়েছে। মানে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে সমাধান সম্ভব।
- প্রথম ধাপ: সংস্থার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন। এই আবেদন অবশ্যই লিখিত আকারে দিতে হবে, সাথে সমস্ত প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র। সময়সীমা খুব গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাতিলের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই আবেদন করতে হয়। এক এনজিওর ঘটনায় দেখলাম, তারা ৪৫ দিন পরে আবেদন করেছিল, ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- দ্বিতীয় ধাপ: প্রশাসনিক আপিল। যখন পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তখন যেতে পারেন আপিল ট্রাইব্যুনালে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক আপিলে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে যদি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকে। যেমন: যদি আপনার এনজিওকে নোটিশ না দিয়ে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল করা হয়, সেটি অবৈধ।
- তৃতীয় ধাপ: হাইকোর্টে রিট পিটিশন। এটা শেষ পথ, কিন্তু কার্যকর। সাম্প্রতিক এক রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, তহবিল ফ্রিজ করার আগে সংশ্লিষ্ট এনজিওকে শোনার সুযোগ দেওয়া আবশ্যক। যদি সেটা না দেওয়া হয়, তাহলে ফ্রিজ অর্ডার স্থগিত করা যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই আইনি লড়াইয়ের খরচ কেমন? আমি কিছু কেস দেখলাম প্রথম ধাপের আবেদনে খরচ প্রায় ৫,০০০-১০,০০০ টাকা (সরকারি ফি ও কাগজপত্র)। আপিল ট্রাইব্যুনালে খরচ একটু বেশি, ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা। হাইকোর্টে অবশ্য ভালো আইনজীবীর প্রয়োজন, খরচ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই খরচ আপনার এনজিওর সঞ্চিত তহবিল থেকে দেওয়া সম্ভব।
ভুলবেন না: আইনি পথ নেওয়ার আগে একবার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমঝোতা হয়ে যায়।
প্রতিরোধ: ভবিষ্যতে যাতে আবার না হয়
প্রশ্ন হলো, কীভাবে শুরু থেকেই এই ঝামেলা এড়ানো যায়? আমি তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখলাম, যারা লাইসেন্স বাতিলের সম্মুখীন হয়েছিল, কিন্তু পরে পুনর্বাসন পেয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়া যায়।
প্রথমত, একটি স্বতন্ত্র অডিট কমিটি গঠন করুন। এই কমিটি প্রতি মাসে খরচ ও আয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। একটি প্রতিষ্ঠান দেখলাম, যারা ছোট হওয়া সত্ত্বেও বহিঃস্থ নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। সেই নিরীক্ষকের রিপোর্টই পরে প্রমাণ করেছিল যে তারা স্বচ্ছ।
দ্বিতীয়ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটের নিয়মিত আপডেট চেক করুন। ২০২৫ সালে সরকার বেশ কয়েকটি নিয়ম পরিবর্তন করেছে যেমন, তহবিলের উৎস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। আপনার এনজিও কি এই পরিবর্তন জানে? যদি না জানে, তাহলে অডিটের সময় বিপদ।
তৃতীয়ত, একটি লিগ্যাল টিম তৈরি করুন। এমনকি ছোট এনজিওর জন্যও এটি জরুরি। একজন আইনজীবী মাসিক ৫,০০০-১০,০০০ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। তারা সময়মতো কাগজপত্র তৈরি করে দেবেন, যা আপনার অজ্ঞতা দূর করবে।
আমি একবার একটি এনজিওর অভিজ্ঞতা শুনলাম তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে নিয়মকানুন শিখেছিল। সেই ওয়ার্কশপেই তারা জেনেছিল, তাদের বিদেশি তহবিলের আবেদন করার পদ্ধতি ভুল। যদি না জানত, তাহলে পরবর্তী অডিটে ধরা পড়ত। সুতরাং নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়া সময়ের অপচয় নয় বরং বিনিয়োগ।
পরামর্শঃ আজই আপনার প্রতিষ্ঠানের সব নিবন্ধন ও তহবিল সংক্রান্ত কাগজপত্রের একটি তালিকা তৈরি করুন। দেখুন কোনো মেয়াদ উত্তীর্ণ আছে কি না। একটি এক্সেল ফাইলেই এই কাজ শেষ মাত্র ৩০ মিনিট।
আপনার এনজিওকে সুরক্ষিত রাখার আরও কিছু উপায়
চতুর্থত, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করুন। ২০২৩ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ৪৫% এনজিও অডিট ব্যর্থ হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের কারণে। যেমন: তহবিলের লেনদেনের জন্য পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না রাখা, বা প্রাপ্তি ও ব্যয়ের রেকর্ড না মেলানো। আপনি যদি মাসিক ভিত্তিতে একটি সাধারণ রিপোর্ট তৈরি করেন যেখানে প্রতিটি টাকার হিসাব থাকে তবে অডিটারে কোনো সমস্যা হবে না। মাত্র ২ ঘন্টা ব্যয় করে এই রিপোর্ট তৈরি করা যায়।
পঞ্চমত, জনসম্পর্ক বজায় রাখুন। আপনার এনজিওর কাজ নিয়ে স্থানীয় সংবাদপত্রে ছোট একটি খবর প্রকাশ করুন যেমন: ‘এনজিওটি ৫০০ শিশুকে শিক্ষা দিচ্ছে’। এটি শুধু স্বচ্ছতা দেখায় না, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। ২০২৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব এনজিও নিয়মিত গণমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম প্রকাশ করে, তাদের অডিট পাসের হার ৩০% বেশি।
ষষ্ঠত, একটি তহবিল সংগ্রহ নীতি প্রণয়ন করুন। স্পষ্টভাবে লিখে রাখুন কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করা হবে, কারা দান করতে পারবে, এবং সেই তহবিল কোথায় ব্যবহার হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি লিখতে পারেন ‘বিদেশি দানের জন্য আগে সরকারি অনুমতি নিতে হবে’ বা ‘স্থানীয় দানের জন্য অভ্যর্থনা জানিয়ে রশিদ দিতে হবে’। এই নীতি আপনার প্রতিষ্ঠানকে আইনগত জটিলতা থেকে রক্ষা করবে।
শেষ কথা
উপরের প্রতিটি টিপস যদি আপনি অনুসরণ করেন, তাহলে আপনার এনজিওর টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। মনে রাখবেন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাই আপনার প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আজ থেকে ৫ বছর পর যদি আপনার এনজিও ১০০টি শিশুকে শিক্ষা দেয়, তবে সেটি সম্ভব হবে এই নিয়ম মেনে চলার কারণেই।
আমার কাছে একটি ছোট এনজিওর উদাহরণ আছে তারা মাত্র ৩০,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিল, কিন্তু নিয়ম মেনে চলার কারণে এখন তাদের বাৎসরিক বাজেট ৫০ লাখ টাকা। তারা প্রতি মাসে একটি ওপেন ফোরাম করে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক ও দাতারা আর্থিক অবস্থা জানতে পারেন। এই সহজ পদ্ধতিই তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে। আপনি যদি এখনই পদক্ষেপ নেন, তবে আপনার প্রতিষ্ঠানও এমন সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সবশেষে, একটি কথা বলি নিয়ম মানতে কষ্ট হতে পারে, কিন্তু তা এড়ালে আপনার এনজিওর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। প্রতিটি নিয়মের পেছনে একটি কারণ থাকে। তাই আজই আপনার টিম নিয়ে বসুন, একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করুন, এবং দেখুন কিভাবে আপনার এনজিও আরও শক্তিশালী হয়।





Leave a Reply