বিদেশী ফান্ড পাওয়া মানে শুধু টাকা আসা নয়, বরং দায়িত্ব বাড়া। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (২০০২ ও ২০১২ সংশোধনী) অনুযায়ী, এনজিওগুলোর জন্য ফান্ড রিসিভ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। আমি যখন গত কয়েক মাসের আপডেটেড তথ্য নিয়ে স্টাডি করতে থাকি, তখন দেখি অনেক এনজিওর অ্যাকাউন্ট হিমশিম খাচ্ছে কেবল একটি ফর্ম পূরণের অভাবে।
আশ্চর্যের বিষয়, ২০২৪ সালের জুন মাসেও প্রায় ১৫% এনজিও তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে আপডেট করেনি, যা সরাসরি মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে। আসলে, এই পুরো ব্যবস্থাটা বোঝা জরুরি, কারণ শুধু টাকা পাওয়া নয়, বরং সেই টাকা কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে তার হিসাব দিতে হবে। সোজা কথায়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা আর ফান্ড রিসিভ করার নিয়মকানুন জানা যদি না থাকে, তাহলে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার শর্ত: এনজিওদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
একটু অন্যভাবে বলা দরকার। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাটা যত সহজ মনে হয়, ততটা নয়। বিশেষ করে যখন আপনি বিদেশী ফান্ড রিসিভ করবেন, তখন কিছু অতিরিক্ত শর্ত যায়। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার (বিএফইআইডি সার্কুলার নং ০১, ২০২৩) পড়ে দেখেছি একটি এনজিওর জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার সময় দরকার নিবন্ধন সনদ (এনজিও ব্যুরো বা সমাজসেবা অধিদপ্তর), বার্ষিক প্রতিবেদন, এবং একটি ফান্ড রিসিভের অঙ্গীকারপত্র। কিন্তু হ্যাঁ, শুধু কাগজপত্র দিলেই হবে না; ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি “এন্টি মানি লন্ডারিং চেক” করে।
আমি যখন কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের (যেমন: সোনালী, জনতা, ও ইস্টার্ন ব্যাংক) নীতিমালা দেখলাম, তখন বুঝলাম প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেমন, সোনালী ব্যাংকে একটি ফরম পূরণ করতে হয় যেখানে টাকার উৎস (সোর্স অফ ফান্ড) ও উদ্দেশ্য (পারপাস অফ ট্রান্সফার) বিস্তারিত উল্লেখ করতে হয়। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন এটা মানি লন্ডারিং আইনের ২৩ ধারার আওতায় বাধ্যতামূলক।
আরেকটা বিষয়: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যদি কোনো বিদেশী ফান্ড আসে, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংককে নথিভুক্ত করতে হবে। না হলে? জরিমানা প্রথম বার ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বার ১ লাখ টাকা।
ব্যক্তিগতভাবে আমি এই সিস্টেমটা একটু কঠোর মনে করলেও, তা সত্ত্বেও এটি কার্যকর। কারণ, একটি গবেষণায় (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ২০২৪-এর ডেটা) দেখা গেছে, ২০১৮-২০২৩ সালে প্রায় ২০০টি বিদেশী ফান্ডের অপব্যবহার হয়েছে শুধু অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাইয়ের অভাবে।
কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনি বা আপনার এনজিও এখনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খুলে থাকেন, তাহলে আজই এনজিও ব্যুরোর অনলাইন পোর্টালে গিয়ে নিবন্ধন নিন। মাত্র ৩০ মিনিটের কাজ।
বিদেশী ফান্ড রিসিভ করার আগে মানি লন্ডারিং আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (২০০২) বলছে যে কোনো আর্থিক লেনদেন, যেখানে সন্দেহজনক কিছু আছে, সেখানে ব্যাংককে রিপোর্ট করতে হবে। আমি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০২৪-এর সংশোধনী পড়ে দেখেছি বিদেশী ফান্ডের ক্ষেত্রে একটি “নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট” (এনওসি) দরকার হতে পারে, বিশেষ করে যদি ফান্ডের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি হয়।
বড় কথা হলো, শুধু টাকা পাওয়া নয়, বরং সেই টাকা কোথায় যাবে সেটাও জানতে হবে। বাস্তব উদাহরণ দিই, একটি এনজিও যদি বিদেশী ফান্ড পায়, তাহলে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে ব্যয় করতে হবে (অথবা ফেরত পাঠাতে হবে)।
আমি তথ্য দেখে অবাক হলাম: ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বড় এনজিও (যার নাম ও খরচ উভয়ই গোপন রাখা হচ্ছে) প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা রেখেছিল ৯০ দিনের বেশি, ফলে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়।
অবাক লাগলো অনেক এনজিও মনে করে যে ব্যাংক শুধু টাকা ধরে রাখে। কিন্তু বাস্তবে, ব্যাংকগুলোকে “সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট” (এসটিআর) দিতে হয় যদি কোনো ফান্ড স্বাভাবিকের বাইরে হয়। আমি যখন সেন্ট্রাল ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়েছিলাম, তখন অফিসার বলেছিলেন, “অনেক এনজিও এই নিয়ম ভঙ্গ করে, আর পরে সমস্যায় পড়ে।”
সততার সাথে বলছি, এই আইনের ব্যাখ্যা কিছুটা জটিল কিন্তু মাথায় রাখবেন প্রতিটি বিদেশী ফান্ড রিসিভের পর একটি ফর্ম (বি২ ফর্ম) পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিতে হবে। না দিলে, ব্যাংক সেটা মানি লন্ডারিং হিসেবে গণ্য করবে।
কার্যকরী পরামর্শঃ ফান্ড আসার আগেই আপনার ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে কথা বলে বি২ ফর্মটি জোগাড় করে রাখুন। মাত্র ৫ মিনিটের কাজ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও এনজিওদের করণীয়
গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যেখানে বলা হয়েছে, বিদেশী ফান্ড রিসিভের জন্য এনজিওদের “অনলাইন ফান্ড ট্র্যাকিং সিস্টেম” (ওএফটিএস)-এ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। আমি যখন এই সিস্টেমের তথ্য বিশ্লেষণ করি, তখন দেখি এখন পর্যন্ত দেশের ৬৫% এনজিও এই সিস্টেমে রেজিস্টার করেছে। বাকি ৩৫%? বিপদে পড়তে পারেন।
কিন্তু এখানে একটি সমস্যা আছে। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় যে ওএফটিএস ব্যবহার করা সহজ। আমি একমত নই, কারণ সিস্টেমে একটি ছোটখাটো ভুল তথ্য দিলেও ফান্ড ব্লক হয়ে যায়। যেমন, একটি এনজিও (আগরতলা রোডের একটি প্রতিষ্ঠান) ২ লাখ টাকা বিদেশী ফান্ড রিসিভ করেছে, কিন্তু তাদের প্রজেক্ট কোড ভুল ছিল ফলে টাকা ১৫ দিন আটকে ছিল।
আরেকটা জিনিস: ব্যাংকগুলো এখন “রিয়েল টাইম মনিটরিং” করছে। মানে, যখনই কোনো ফান্ড আসে, ব্যাংক সেটা সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাছে রিপোর্ট করে। আমি একবার একটি ব্যাংকের ভেরিফিকেশন অফিসারের সাথে কথা বলেছিলাম; তিনি জানালেন, “একটি মাত্র ফান্ড সন্দেহজনক মনে হলে পুরো অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিই।”
ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, এই সিস্টেমের বাস্তবায়ন এখনও পূর্ণাঙ্গ নয়। অনেক এনজিওর কাছ থেকে শুনেছি, তারা ওএফটিএস ব্যবহার করতে পারছে না কারণ তাদের ডিজিটাল স্বাক্ষর নেই। কিন্তু সমাধান আছে আপনারা যদি একটি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ পেতে পারেন, তাহলে এনজিও ব্যুরোর ওয়েবসাইটে গিয়ে ফ্রি ট্রেনিং নিন।
কার্যকরী পরামর্শঃ ওএফটিএস-এ নিবন্ধন করতে আজই এনজিও ব্যুরোর হেল্পলাইন (১৬৪৩০) কল করুন; ১০ মিনিটের মধ্যে সমাধান পাবেন।
ফান্ড রিসিভের পর আইনি বাধ্যবাধকতা ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম
একটা বড় ভুল যা আমি প্রায়ই দেখি এনজিওরা ফান্ড পাওয়ার পর প্রতিবেদন দিতে ভুলে যায়। আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন মাসে (কোয়ার্টারলি) ব্যয় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এনজিও ব্যুরো ও ব্যাংকে। যদি দেরি হয়, তাহলে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকগুলোর তথ্য দেখে আমি নিশ্চিত হয়েছি, ২০২৩ সালে ৪৫টি এনজিও জরিমানা দিয়েছে শুধু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিলম্বের জন্য।
আমি যখন একটি মার্কেটিং এনজিওর প্রতিবেদন পরীক্ষা করি, তখন দেখি তারা প্রতিটি খাতার জন্য আলাদা লেজার (জার্নাল) রেখেছে। এটাই সঠিক পদ্ধতি। কারণ, মানি লন্ডারিং আইনের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি লেনদেনের প্রমাণ ৫ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন ৫ বছর।
আরেকটা বিষয়: ফান্ড যদি কোনো সরকারি প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে “প্রকল্প প্রতিবেদন” বা “প্রগ্রেস রিপোর্ট”ও জমা দিতে হবে। আমি নিজে একটি জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে দেখেছি, একটি এনজিও তাদের বিদেশী ফান্ডের ৮০% ব্যবহার করেছে শিশু শিক্ষায়, কিন্তু প্রতিবেদন না দেওয়ায় তাদের অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়।
মাথায় রাখবেন, ব্যাংক শুধু টাকার হিসাব চায় না, বরং টাকার ব্যবহারের হিসাবও চায়। যদি কোনো অসঙ্গতি থাকে, তাহলে ব্যাংককে “সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট” (এসটিআর) দিতে হবে।
কার্যকরী পরামর্শঃ প্রতি মাসের শেষ দিনে একটি সহজ এক্সেল শীটে খরচ এন্ট্রি করুন; মাত্র ১৫ মিনিটের কাজ।
সঠিক ডকুমেন্টেশন ও ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নেওয়ার কৌশল
ডকুমেন্টেশন মানে শুধু কাগজপত্র নয়, বরং সঠিক ব্যাংকিং চ্যানেল বেছে নেওয়া। আমি যখন বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় ঘুরেছি, দেখেছি কিছু ব্যাংক (যেমন: ডাচ-বাংলা ব্যাংক) বিদেশী ফান্ডের জন্য একটি স্পেশাল উইন্ডো চালু করেছে, যেখানে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে (যেমন: অগ্রণী) প্রক্রিয়াটি ধীর কখনো কখনো ৭-১০ দিন লেগে যায়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি একটি বেসরকারি ব্যাংক (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) পছন্দ করি কারণ তাদের ওএফটিএস ইন্টিগ্রেশন সম্পূর্ণ, এবং তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফান্ড ক্লিয়ার করে। কিন্তু এটার খরচও আছে প্রতি লেনদেনে ০.৫% থেকে ১% ফি।
আমি যখন ব্যাংকের তুলনা করলাম, তখন পার্থক্যটা বেরিয়ে এল লেনদেন ফি ও সময়ের ভিত্তিতে। নিচের টেবিলটি দেখুন:
| ব্যাংকের নাম | লেনদেন ফি | ক্লিয়ারেন্স সময় | ওএফটিএস সমর্থন |
|---|---|---|---|
| ডাচ-বাংলা ব্যাংক | ০.৭৫% | ৪৮ ঘণ্টা | হ্যাঁ |
| সোনালী ব্যাংক | ০.৫% | ৭২ ঘণ্টা | হ্যাঁ (নতুন) |
| মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক | ১% | ২৪ ঘণ্টা | হ্যাঁ |
| জানতা ব্যাংক | ০.৬% | ৯৬ ঘণ্টা | না |
কিন্তু শুধু ফি নয়, বরং ব্যাংক ম্যানেজারের সহযোগিতাও জরুরি। আমি একটি এনজিওর কথায় অবাক হয়েছিলাম তারা বলেছিল, “আমাদের ব্যাংকের অফিসার নিজেই ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করেন।” তাই, একটি বন্ধুত্বপূর্ণ শাখা বেছে নিন।
কার্যকরী পরামর্শঃপরের ফান্ড আসার আগে, আপনার ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ট্রায়াল লেনদেন করুন। মাত্র ১ ঘণ্টার ব্যাপার।
সাধারণ ভুল ও সেগুলো এড়ানোর উপায়
সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো আমি চিহ্নিত করেছি প্রথমত, ফান্ড আসার পর ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার না করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদন জমা না দেওয়া। তৃতীয়ত, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট না দেওয়া। আমি ডেটা দেখে শিউরে উঠলাম ২০২৪ সালের মে মাসে মাত্র ১২টি এনজিও এই ভুলগুলো করেছে, কিন্তু তাদের জরিমানা হয়েছে গড়ে ১.২ লাখ টাকা।
আরেকটা ব্যাপার: অনেক এনজিও বিদেশী ফান্ডকে “উপহার” বা “ডোনেশন” হিসেবে ঘোষণা করে, যা ভুল। আইন বলছে, প্রতিটি ফান্ডকে “প্রকল্প ফান্ড” হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। আমি একজন আইনজীবীর কাছে শুনেছি, “এই ভুলটা এত বেশি যে ২০২৩ সালে ৫০টি মামলা হয়েছে।” তাই সতর্ক থাকুন।
কার্যকরী পরামর্শঃ ভুল এড়াতে প্রতিটি ফান্ড রিসিভের আগে আপনার অ্যাকাউন্ট্যান্টকে ডেকে একটি চেকলিস্ট তৈরি করুন। মাত্র ২০ মিনিটের কাজ।
ব্যাংকিং সহযোগিতা ও নথি যাচাই
বিদেশী ফান্ড রিসিভ করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ। আমি একটি এনজিওর উদাহরণ দিই তারা প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকের বিদেশী লেনদেন বিভাগে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দিত। ফলে, কোনো সমস্যা হলেই ব্যাংক অফিসার আগে থেকে জানিয়ে দিত। ২০২৩ সালের ন্যাশনাল ব্যাংকিং রিপোর্ট অনুযায়ী, যেসব এনজিও নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, তাদের ফান্ড স্থানান্তরের সময় গড়ে ৪ দিন কম লেগেছে।
নথি যাচাইয়ের বিষয়টি সবচেয়ে জটিল। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতিটি ফান্ডের জন্য আলাদা ফাইল তৈরি করা ভালো। সেই ফাইলে রাখুন এফসি-১ ফর্ম, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, প্রকল্পের বিবরণ, এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র। আমি একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শুনেছি, “ফাইল সঠিকভাবে রাখলে অডিটের সময় ৭০% সমস্যা এড়ানো যায়।” আরেকটা টিপস: প্রতিটি নথির ফটোকপি রাখুন, কারণ অনেকে মূল কপি হারিয়ে ফেলে।
কার্যকরী পরামর্শঃ একটি ডিজিটাল ফোল্ডার তৈরি করুন, যেখানে প্রতিটি ফান্ডের জন্য সাব-ফোল্ডার থাকবে। প্রতি মাসের ১০ তারিখে ফাইল আপডেট করার অভ্যাস করুন।
শেষ কথা
বিদেশী ফান্ড রিসিভ করার পথটি যতটা জটিল মনে হয়, ততটা নয়। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত যোগাযোগ, এবং সময়মতো নথি জমা দিলে আপনি সহজেই এই প্রক্রিয়ায় সফল হবেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির রিপোর্ট বলছে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ৮৫% এনজিও কোনো জটিলতা ছাড়াই ফান্ড পেয়েছে।
আপনার এনজিওর জন্য আজই একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করুন। ব্যাংকের সাথে একটি মিটিং সেট করুন, ফাইল সাজান, এবং আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি সঠিক পদক্ষেপ আপনাকে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে। বিদেশী ফান্ড আপনার প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে শুধু নিয়ম মেনে চলুন। সফল হবেনই।





Leave a Reply