Skip to content
Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
নারীদের এনজিও সুবিধা.png
সাধারন জিজ্ঞাসা

গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীদের এনজিও সুবিধা দেয় কোন প্রতিষ্ঠানগুলো?

সুবর্ণা পারভীন
By সুবর্ণা পারভীন
September 27, 2026

বাংলাদেশে বহু নারী রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির দেখাশোনা এবং অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে যুক্ত থেকে আয় করেন। দীর্ঘদিন গৃহকর্ম মূলত অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় লিখিত কর্মশর্ত, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বিরোধের ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। ২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনে প্রথমবারের মতো “গৃহ পরিচারক” আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এবং আইনের নির্দিষ্ট কয়েকটি অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের আগের সাধারণ বর্জনের বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালের গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম গৃহকর্মীদের অধিকার, দক্ষতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে “এনজিও সুবিধা” মানেই মাসিক নগদ ভাতা নয়। গৃহকর্মী নারীদের জন্য অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দক্ষতা প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা, অধিকারবিষয়ক পরামর্শ, কর্মসংযোগ, দল গঠন, সহিংসতার ঘটনায় সহায়তা এবং নীতিগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। তাই কারও প্রয়োজন যদি চাকরি, প্রশিক্ষণ বা আইনি সুরক্ষা হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই বেশি কার্যকর।

এই লেখার তথ্য বাংলাদেশ সরকারের আইনবিষয়ক সরকারি তথ্য, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত প্রকল্প ও সেবার তথ্য মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের মেয়াদ, প্রশিক্ষণের নতুন ব্যাচ, সেবার এলাকা বা নিবন্ধনের সুযোগ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সরাসরি সেবা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান তথ্য যাচাই করা উচিত।

  • গুরুত্বপূর্ণ: এই লেখায় আইনের সাধারণ তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত বেতন বিরোধ, নির্যাতন, মামলা বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট আইনি সমস্যার ক্ষেত্রে যোগ্য আইনজীবী অথবা সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গৃহকর্মী নারীদের বর্তমান আইনি অবস্থান

গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় “গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫” একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো। এর পাশাপাশি ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রণীত বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ “গৃহ পরিচারক” বলতে নিয়োগকারীর গৃহে মৌখিক বা লিখিতভাবে খণ্ডকালীন বা পূর্ণকালীন ভিত্তিতে গৃহকর্ম করা ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তবে পুরো শ্রম আইন গৃহকর্মীদের ওপর একইভাবে প্রযোজ্য হয়েছে এভাবে বলা ঠিক হবে না।

সংশোধিত আইনে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে গৃহ পরিচারকদের সাধারণ বর্জনের বাইরে রাখা হয়েছে। এসব অধ্যায়ে দুর্ঘটনাজনিত জখমের ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্প সম্পর্ক এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ও শ্রম আদালতসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুমোদন করেনি। বাংলাদেশ ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুমোদন করেছে এবং এটি বাংলাদেশের জন্য ২০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশ: সুনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে সমন্বিত সহায়তা

গৃহকর্মী নারীদের নিয়ে বড় সমন্বিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো সুনীতি বা “সিকিউরিং রাইটস অব উইমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স” প্রকল্প। অক্সফাম ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষতা, অধিকার সচেতনতা, নেতৃত্ব, কর্মসংযোগ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে কাজ করেছে। প্রকাশিত প্রকল্প ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী গৃহকর্মীদের মধ্যে অধিকারবিষয়ক সচেতনতা ২০১৯ সালের ১২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৭৪ শতাংশে পৌঁছায় এবং লিখিত কর্মব্যবস্থার হার ৮ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার ২০ হাজারের বেশি নারী গৃহকর্মীর কাছে পৌঁছানোর তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্মজীবী নারী: অধিকার, সংগঠন ও আইনি সহায়তা

কর্মজীবী নারী নারী শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা, সংগঠন ও নেতৃত্ব উন্নয়নে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত প্রকল্প তালিকায় গৃহকর্মী নারীদের অধিকারবিষয়ক সুনীতি প্রকল্পের মেয়াদ আগস্ট ২০২২ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। সংগঠনটির বিস্তৃত কার্যক্রমের মধ্যে নারী শ্রমিকদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা, নীতিগত প্রচারণা এবং কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক সমস্যায় আইনি সহায়তা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। গৃহকর্মী নারীদের জন্য বর্তমানে কোন নির্দিষ্ট সেবা বা প্রকল্প চালু আছে, তা যোগাযোগের আগে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র: গৃহকর্মী দল ও জীবনদক্ষতা

দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ডিএসকে সুনীতি প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে মোহাম্মদপুর, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় কাজ করেছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রমের মধ্যে গৃহকর্মী দল গঠন, জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ, নিয়মিত অনুসরণ, প্রচারণা এবং অধিকার সচেতনতা ছিল। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল প্রায় ১২ হাজার গৃহকর্মীর কাছে পৌঁছানো। দলভিত্তিক ব্যবস্থায় একজন নারী নিজের সমস্যার পাশাপাশি অন্য গৃহকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও সহায়তা নেটওয়ার্কের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারেন।

ইউসেপ বাংলাদেশ: বিনামূল্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণ

গৃহকর্মী নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ২৩ এপ্রিল ২০২৫ সুনীতি প্রকল্পের আওতায় অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় গৃহকর্মীদের জন্য একটি ডিজিটাল শেখার ব্যবস্থা চালু করা হয়, যেখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর আগে ঢাকার পাঁচটি স্থানে নারী গৃহকর্মীদের জন্য ১০ দিনের গৃহস্থালি কাজভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার তথ্যও ইউসেপ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে সরাসরি প্রশিক্ষণের নতুন ব্যাচ বা অনলাইন নিবন্ধন চালু আছে কি না, তা ইউসেপের সর্বশেষ তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ: গবেষণা ও শ্রম অধিকার

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বা বিলস শ্রম অধিকার নিয়ে গবেষণা, নীতিগত প্রচারণা, প্রকাশনা এবং শ্রমিক সংগঠনের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করে। গৃহকর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পৃথক গবেষণা ও প্রকল্প রয়েছে এবং তাদের বর্তমান প্রচারণার বিষয়গুলোর মধ্যে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫-এর বাস্তবায়ন এবং শ্রম আইন সংস্কার অন্তর্ভুক্ত। বিলসকে নিয়মিত নগদ সহায়তার উৎস হিসেবে না দেখে শ্রম অধিকার, গবেষণা, নীতিগত তথ্য ও সংগঠনবিষয়ক সহায়তার উৎস হিসেবে বিবেচনা করা বেশি যথাযথ।

ক্যাম্পে ও নারী মৈত্রী: সচেতনতা ও অংশগ্রহণ

ক্যাম্পে গৃহকর্মীদের অধিকার, নীতির বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি বাড়াতে প্রকল্প পরিচালনা করেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সময়কালের একটি প্রকল্পে প্রায় ১,৫০০ গৃহকর্মীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। নারী মৈত্রীও গৃহকর্মী নারীদের দক্ষতা, নেতৃত্ব, দল গঠন ও অধিকার দাবির সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কাজ করেছে। প্রকল্পভেদে সেবার এলাকা বদলাতে পারে, তাই যোগাযোগের সময় বর্তমান কার্যক্রম জানতে হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র: আইনি সহায়তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া

আইন ও সালিশ কেন্দ্র বা আসক শুধু গৃহকর্মীদের জন্য কাজ করে না; প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের আইনি ও মানবাধিকার সহায়তা দেয়। তাদের প্রকাশিত সেবার মধ্যে আইনি পরামর্শ, মধ্যস্থতা, মামলা পরিচালনায় সহায়তা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, মনোসামাজিক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৬ সালেও আসক গৃহকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার তথ্য প্রকাশ করেছে। আইনি সহায়তার জন্য তাদের প্রকাশিত হেল্পলাইন নম্বর ০১৭২৪ ৪১৫ ৬৭৭ এবং সেবার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়া উচিত।

কোন প্রয়োজনের জন্য কোথায় যোগাযোগ করবেন?

প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত কাজের ধরন অনুযায়ী, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ইউসেপ বাংলাদেশ, গৃহকর্মী দল ও অধিকার সচেতনতার জন্য ডিএসকে বা কর্মজীবী নারী, শ্রম অধিকার ও নীতিগত তথ্যের জন্য বিলস এবং আইনি বিরোধ বা নির্যাতনের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ক্যাম্পে ও নারী মৈত্রীও গৃহকর্মীদের অধিকারবিষয়ক প্রকল্পে কাজ করেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সব সেবা সব সময় বা সব এলাকায় চালু থাকে না। তাই যোগাযোগের সময় বর্তমান প্রকল্প, যোগ্যতা এবং সেবার এলাকা জেনে নেওয়া উচিত।

সহায়তা চাইতে যাওয়ার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন

  • নিজের পরিচয়পত্র থাকলে প্রয়োজনের জন্য একটি কপি সঙ্গে রাখুন; মূল পরিচয়পত্র অপ্রয়োজনে কারও কাছে জমা দেবেন না।
  • নিয়োগকর্তার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, কাজের সময় ও মজুরির তথ্য লিখে রাখুন।
  • লিখিত চুক্তি, মোবাইল বার্তা, বেতন লেনদেনের তথ্য বা সাক্ষীর নাম সংরক্ষণ করুন।
  • আঘাত বা সহিংসতার ঘটনা হলে চিকিৎসা নথি ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ নিরাপদে রাখুন।
  • প্রতিষ্ঠানটি আপনার এলাকায় কাজ করছে এবং নতুন প্রশিক্ষণার্থী বা সদস্য নিচ্ছে কি না আগে জেনে নিন।

গৃহকর্মী নারীদের এনজিও সুবিধা নিয়ে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. গৃহকর্মী নারীরা কি এনজিও থেকে মাসিক ভাতা পান?

সাধারণভাবে অধিকাংশ এনজিও স্থায়ী মাসিক ভাতা দেয় না। তাদের প্রধান সহায়তা প্রশিক্ষণ, অধিকার সচেতনতা, আইনি সহায়তা, কর্মসংযোগ ও দল গঠন। কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে সাময়িক সহায়তা থাকতে পারে, কিন্তু সেটি নিয়মিত ভাতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

২. বিনামূল্যে গৃহকর্মের প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যেতে পারে?

ইউসেপ বাংলাদেশ ২০২৫ সালে গৃহকর্মীদের জন্য একটি ডিজিটাল শেখার ব্যবস্থা চালু করে এবং সেখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ঢাকায় সরাসরি গৃহস্থালি কাজভিত্তিক প্রশিক্ষণও পরিচালনা করেছে। বর্তমানে অনলাইন কোর্সে প্রবেশ বা নতুন সরাসরি প্রশিক্ষণ ব্যাচ চালু আছে কি না, তা ইউসেপের সর্বশেষ তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত।

৩. বেতন না দিলে কোন প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া যায়?

বকেয়া মজুরির পরিমাণ, কাজের সময়কাল, মোবাইল বার্তা, লেনদেনের তথ্য এবং সম্ভাব্য সাক্ষীর তথ্য যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করুন। কর্মজীবী নারী শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেয় এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র আইনি পরামর্শ, মধ্যস্থতা বা প্রয়োজন অনুযায়ী মামলা সহায়তা দিতে পারে। কোন আইনি পথ প্রযোজ্য হবে তা ঘটনার ধরন ও কর্মসম্পর্কের ওপর নির্ভর করতে পারে, তাই নির্দিষ্ট বিরোধে আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৪. গৃহকর্মী নারী নির্যাতনের শিকার হলে কী করবেন?

তাৎক্ষণিক ঝুঁকি থাকলে আগে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নিন। আইনি সহায়তার জন্য আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। শারীরিক আঘাত থাকলে চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসার কাগজ, ছবি, বার্তা বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ নিরাপদে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. চাকরি পেতে এনজিও কি সাহায্য করে?

কিছু প্রকল্প প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাজের সঙ্গে সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সুনীতি প্রকল্পে হ্যালোটাস্কের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত গৃহকর্মীদের কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কোনো এনজিও বা প্রশিক্ষণে অংশ নিলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। নিবন্ধনের আগে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কর্মসংযোগ সেবা দিচ্ছে কি না এবং এর শর্ত কী, তা জেনে নেওয়া উচিত।

৬. লিখিত চুক্তি করা কি দরকার?

লিখিত চুক্তি থাকলে মজুরি, কাজের সময়, ছুটি, দায়িত্ব ও চাকরি ছাড়ার নিয়ম পরিষ্কার থাকে। এতে পরে বিরোধ তৈরি হলে তথ্য প্রমাণ করা সহজ হয়। সম্ভব হলে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরসহ একটি কপি নিজের কাছে রাখা ভালো।

৭. ঢাকার বাইরে গৃহকর্মী নারীরা কি এসব সুবিধা পাবেন?

অনেক সরাসরি প্রকল্প ঢাকা কেন্দ্রিক ছিল। তবে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের জন্যও সুযোগ বাড়িয়েছে। ঢাকার বাইরে থাকলে স্থানীয় নারী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন ও আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া উচিত।

৮. নিজের শ্রম অধিকার জানতে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

কর্মজীবী নারী, বিলস, ডিএসকে, ক্যাম্পে এবং গৃহকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অন্যান্য সংগঠনের প্রকাশিত তথ্য থেকে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আইনের বর্তমান অবস্থা জানতে বাংলাদেশ আইনের সরকারি পাঠ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। ব্যক্তিগত বিরোধ বা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি যোগ্য আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত।

৯. এনজিওতে যোগাযোগ করলে কী তথ্য দিতে হতে পারে?

নিজের নাম, এলাকা, কাজের ধরন, সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং যোগাযোগ নম্বর সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে। আইনি সমস্যা হলে কাজের সময়কাল, বেতন, ঘটনার তারিখ ও প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। মূল কাগজ অপ্রয়োজনে কারও কাছে জমা দেওয়া উচিত নয়।

১০. প্রয়োজন অনুযায়ী কোন ধরনের সহায়তা বেছে নেবেন?

সহায়তার ধরন সমস্যার ওপর নির্ভর করবে। দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, বেতন বা কর্মশর্ত নিয়ে সমস্যায় শ্রম অধিকার বা আইনি পরামর্শ, নির্যাতনের ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে অধিকার সম্পর্কে জানতে শ্রমিক সংগঠন বা সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যোগাযোগের আগে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সেবা ও কার্য এলাকা যাচাই করা ভালো।

উপসংহার

বাংলাদেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীদের জন্য অক্সফাম ইন বাংলাদেশ ও এর অংশীদার প্রতিষ্ঠান, কর্মজীবী নারী, ডিএসকে, ইউসেপ বাংলাদেশ, বিলস, ক্যাম্পে, নারী মৈত্রী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ, অধিকার সচেতনতা, সংগঠন, কর্মসংযোগ ও আইনি সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনে গৃহ পরিচারকের সংজ্ঞা যুক্ত হওয়া এবং আইনের নির্দিষ্ট কয়েকটি অধ্যায়ের প্রয়োগে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে কোনো প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা বা প্রকল্প বর্তমানে চালু আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য থেকে যাচাই করেই যোগাযোগ করা উচিত।

তথ্য যাচাইয়ের উৎস

এই নিবন্ধের আইনসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ আইনের সরকারি তথ্যভান্ডার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নর্মলেক্স থেকে এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট ও প্রকাশিত প্রকল্প তথ্য থেকে যাচাই করা হয়েছে।

🔥 Recommended For You

এনজিও ঋণে নারীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কেন?
এনজিও ঋণে নারীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কেন?
এনজিও রেজিস্ট্রেশন: সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো
এনজিও রেজিস্ট্রেশন: সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন ও এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো
সুবর্ণা পারভীন
Author

সুবর্ণা পারভীন

সুবর্ণা পারভীন একজন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট রাইটার ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশের এনজিও, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি এই সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণাধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করছেন।

Follow Me
Other Articles
জামানতবিহীন ঋণ.png
Previous

নারীদের জামানতবিহীন ঋণ দেয় যেসব এনজিও

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • গৃহকর্মে নিয়োজিত নারীদের এনজিও সুবিধা দেয় কোন প্রতিষ্ঠানগুলো?
  • নারীদের জামানতবিহীন ঋণ দেয় যেসব এনজিও
  • এনজিও ঋণে নারীদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় কেন?
  • বাংলাদেশে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এনজিও কোনগুলো?
  • নির্যাতিত নারীদের নিয়ে কাজ করে যেসব এনজিও
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
« Aug    
ডিসক্লেইমারঃ আমরা কোনো এনজিও বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নই। এই সাইটের তথ্যগুলো কেবল আমরা আপনাদের জন্য সাধারণ সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করি।
Copyright 2026 — Suggestionworld24.com. All Rights Reserved.