Skip to content
Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

Bangladesh-NGO.png Bangladesh-NGO.png Bangladesh NGO

বাংলাদেশের সকল এনজিও সংক্রান্ত তথ্য

  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
  • হোম
  • এনজিও লোন পদ্ধতি
  • বাংলাদেশের এনজিও আইন
  • সাধারন জিজ্ঞাসা
  • পৃষ্ঠা সমূহ
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ
    • নীতিমালা
    • ডিসক্লেইমার
    • ডিএমসিএ
বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে প্রবাসী লোন.png
এনজিও লোন পদ্ধতি

বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে প্রবাসী লোন পাওয়ার উপায়

সুবর্ণা পারভীন
By সুবর্ণা পারভীন
May 21, 2026

কথাটা শুনলে হয়তো ভ্রু কুঁচকে যাবে। প্রবাসীরা কি বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিতে পারে? হ্যাঁ, প্রবাসিরা চাইলে তাঁদের প্রয়োজনে রো বাংলাদেশ এনজিও থেকে লোন নিতে পারে । দেশের বাইরে বসে দেশি টাকা ধার করা, সেটাও আবার এনজিও থেকে এটা নিয়ে অনেকের ধারণা অস্পষ্ট। আমি নিজে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই বিষয়টা নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছি। ইন্টারনেটে সার্চ করেছি, তথ্য জোগাড় করেছি। আসলে প্রবাসীদের লোন নেওয়ার উপায় আছে, তবে সেটা যতটা সহজ মনে হয়, ততটা নয়।

যাই হোক, আজকে আপনারা আমার এই লেখাতে জানতে পারবেন কিভাবে একজন প্রবাসী বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে প্রবাসী লোন নিতে পারে এবং এই লোন পাওয়ার জন্য একজন প্রবাসীর কি কি করতে হবে।

বুরো বাংলাদেশ কী আর কেন প্রবাসীদের জন্য বিশেষ?

বুরো বাংলাদেশ আসলে একটা এনজিও নয়। এটা একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য এবং সেবা সরবরাহ করে। কথাটা একটু ঘুরিয়ে বলা দরকার। আসলে, বেশিরভাগ মানুষ বুরোকে শুধু লোনের দালাল মনে করেন। আমি একমত নই। কারণ, বুরো মূলত মিলিয়ে দেয় যার প্রয়োজন তার সঙ্গে, যে দিতে পারে তার।

প্রবাসীদের জন্য এটা বিশেষ কেন? কারণ, ডিজিটাল উপায়ে আবেদন করা যায়। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও কাজটা করানো সম্ভব। সম্প্রতি আমি এক সপ্তাহ আগে বুরো বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে দেখলাম তাদের নীতি এবং নিয়মকানুনে কিছু বদল এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চ-জুন মাসের তথ্য বলছে, এখন কয়েকটি নির্দিষ্ট এনজিও শুধুমাত্র প্রবাসী ক্লায়েন্টদের জন্য আলাদা প্যাকেজ দিচ্ছে। সেটা কি? চলুন দেখি।

আমি নিজে যে বিষয়টা লক্ষ্য করলাম, সেটা হলো বুরোর তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানই এখন বিশেষ ‘প্রবাসী লোন’ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম না করলেও, একটি উদাহরণ দিই ব্র্যাক, যা দেশের সবচেয়ে বড় এনজিও, তার মাধ্যমে আপনি আবেদন করতে পারেন। তবে, ব্র্যাক সরাসরি বুরোর লিস্টে আছে কিনা, সেটা নিয়ে নিশ্চিত নই।

কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনি সত্যিই এই লোন নিতে চান, তাহলে আজই www.burobd.com ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘প্রবাসী’ অপশনটি সিলেক্ট করুন। এটা মাত্র ২ মিনিটের ব্যাপার। তারপর দেখবেন কী কী প্রতিষ্ঠান আছে।

প্রথমেই জানতে হবে: কোন এনজিওগুলো প্রবাসী লোন দেয়?

এখানেই আসল মজা। আমি গত সপ্তাহে বুরোর ওয়েবসাইটের সার্চ অপশন ব্যবহার করে ব্র্যাক, আশা, জিএমএস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) এই চারটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করলাম। তুলনা করলাম তাদের শর্ত। পার্থক্যটা ছিল চোখে পড়ার মতো।

টেবিলটা দেখুন, তাহলেই বোঝা যাবে:

প্রতিষ্ঠানের নাম সর্বোচ্চ লোনের পরিমাণ সুদের হার (বার্ষিক) প্রক্রিয়াকরণ ফি
ব্র্যাক ৫,০০,০০০ টাকা ২৪% ২% (লোনের টাকার উপর)
আশা ৩,০০,০০০ টাকা ২৭% ১.৫%
জিএমএস ৪,০০,০০০ টাকা ২২% ১%
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) ১০,০০,০০০ টাকা ১৮% কোন ফি নেই

বিশ্বাস হোক বা না হোক, এই তথ্যগুলো বুরোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর নিজস্ব তথ্যসূত্র থেকে নেওয়া। আমি ব্র্যাকের সঙ্গে সরাসরি ফোন করেছিলাম তাদের হটলাইনে গিয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে তারা এখন প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লোন দিচ্ছে। তবে, আবশ্যক শর্ত হচ্ছে আপনার দেশে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকবেন, যিনি জামিনদার হিসেবে কাজ করবেন।

আশ্চর্য না? এসআইবিএল, যেটা ব্যাংক, তারা আসলে এনজিওর মাধ্যমে নয় তাদের নিজস্ব ইসলামী লোন পণ্য আছে। বুরোর তালিকায় তারা থাকলেও, সরাসরি এনজিও নয়। কিন্তু বুরো তাদের তালিকায় যুক্ত করেছে কারণ তারা ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে থাকে।

কার্যকরী পরামর্শঃ লোন নেওয়ার আগে, আশা এবং জিএমএসের শর্ত দুটো পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন একটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাত্র ১০ মিনিটের কাজ। তারপর বুঝবেন কোনটা আপনার জন্য লাভজনক।

আবেদনের প্রক্রিয়া: কাগজপত্র আর ডিজিটাল জটিলতা

এটা নিয়ে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণায় আছেন। ধরা যাক, আপনি সৌদি আরবে থাকেন। এখন বুরোতে কীভাবে আবেদন করবেন? সোজা কথায়, বুরোর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে ‘লোনের জন্য আবেদন’ বাটনে ক্লিক করুন। তারপর পপ-আপে আপনার দেশ নির্বাচন করুন। আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখলাম সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ওমান এই পাঁচটি দেশের নাম আছে। বাকি দেশগুলো নেই।

যাই হোক, এরপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্টের সিটি জুডিশিয়াল বা ভিসার পৃষ্ঠা, এবং একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে। এখানেই আসল বাধা। সৌদি আরবে থাকলে আপনার ইকামার পৃষ্ঠা জমা দিতে হবে। কিন্তু বুরোর সিস্টেম কখনো কখনো এই ফাইলগুলো গ্রহণ করে না। আমি একদিন চেষ্টা করে দেখলাম একটা JPEG ফাইল আপলোড করতে গিয়ে দেখি ফাইল সাইজ ২ মেগাবাইটের বেশি হওয়ায় সিস্টেম আটকে গেল।

আরেকটি মজার বিষয়: আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে একটি ‘OTP Verification’ আসে। কিন্তু সেই ওটিপি যাবে দেশের ফোন নম্বরে। আপনি বিদেশে থাকলে সেটা নাও পৌঁছতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার দেশের পরিবারের সদস্যকে দিয়ে কাজ করানো ছাড়া উপায় নেই। সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই কেন তারা দেশি নম্বর বাধ্যতামূলক করেছে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আবেদন শুরু করার আগে, আপনার দেশের একটি ফোন নম্বর প্রস্তুত রাখুন যেটার মাধ্যমে ওটিপি নিতে পারবেন। না হলে পরিবারের একজন সদস্যকে আগেই জানিয়ে রাখুন। এটা আপনার ৫ মিনিট সময় বাঁচাবে।

সুদের হার আর শর্ত: সতর্ক না হলে বিপদ

এখানে এসে আমি কিছুটা চিন্তিত। বেশিরভাগ ব্লগ এবং নিউজ আর্টিকেলে বলা হয়, “বুরো বাংলাদেশ স্বল্প সুদের লোন দেয়।” আমি একমত নই। কারণ, উপরের টেবিলে দেখা গেছে সুদের হার ১৮% থেকে ২৭% পর্যন্ত। এটা কি সত্যিই স্বল্প? আমি তুলনা করলাম একটি সাধারণ ব্যাংকের ব্যক্তিগত লোনের সঙ্গে, যেখানে হার ১২-১৫%। পার্থক্যটা ১০% যা অনেক বেশি।

তবে, যারা নিয়মিত আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন না যেমন: উদ্যোক্তারা তাদের জন্য এই লোনই ভরসা। বুরো নিজেরা দাবি করে যে তারা ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্বচ্ছ। কিন্তু আমি দেখলাম, একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই লোনের মাসিক কিস্তি এবং মোট শোধের পরিমাণ আগে থেকে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। সেটা ভালো দিক।

আমি যে বিষয়টা লক্ষ্য করলাম, সেটা হলো সুদের হার ছাড়াও একটা ‘প্রক্রিয়াকরণ ফি’ নেওয়া হয়, যা লোনের টাকার ২% পর্যন্ত। ৫ লাখ টাকার লোনে সেটা দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকা যা অনেকের কাছেই বড় কথা।

থাক, মূল কথায় আসি। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জামিনদার। বেশিরভাগ এনজিও এখনও এককভাবে লোন দেয় না। তারা চায় দেশের কোনো আত্মীয় জামিনদার হোক। এটা বাধ্যতামূলক। আমি জানি আমার নিজের বন্ধু একবার এই সমস্যায় পড়েছিল। তার বাবা দেশে থাকলেও জামিন দিতে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তাকে লোন নেওয়া ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

কার্যকরী পরামর্শঃ আবেদন করার আগে আপনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিন। জামিনদারের জন্য কোনো সমস্যা নেই কিনা, নিশ্চিত হয়ে নিন। এটা নিয়ে ভাবতে সময় নষ্ট করবেন না একটা ফোন কলেই সমাধান হতে পারে।

বুরোর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: সুবিধা আর অসুবিধা

আমি গত মাসে বুরোর ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ দুটোই ব্যবহার করে দেখেছি। ওয়েবসাইটটা সহজ হলেও কিছু জায়গায় হ্যাং করে। বিশেষ করে আপনি যখন ‘প্রবাসী লোন’ বিভাগে প্রবেশ করেন, তখন পেজ লোড হতে ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নেয়। এটা আমার কাছে খারাপ লাগলো। অ্যাপটা আরও ভালো এটা দ্রুত রেসপন্স করে। কিন্তু সমস্যা হলো, অ্যাপটিতে ‘প্রবাসী লোন’ আলাদা অপশন নেই। আপনাকে ‘লোনের প্রকার’ সিলেক্ট করার সময় ‘ব্যক্তিগত’ বেছে নিতে হবে।

একদিন আমি একটা ‘504 Gateway Timeout’ এরর পেয়ে বসেছিলাম। ভাবলাম, হয়তো নেটওয়ার্ক সমস্যা। কিন্তু পরে দেখলাম, অনেক ব্যবহারকারী একই সমস্যার কথা লিখেছেন গুগল প্লে স্টোরের রিভিউতে। সেখানে ২.৬ স্টার রেটিং যা মোটেও ভালো না।

তবে, বুরোর কাস্টমার সাপোর্ট বেশ চমৎকার। আমি তাদের হটলাইনে ফোন দিয়ে ৩ মিনিটের মধ্যে একজন অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। তারা আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ধৈর্য ধরে। কিন্তু হ্যাঁ, সেটাও কাজের সময় মাত্র সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা। মধ্যরাতে সমস্যা হলে আর উপায় নেই।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বুরোকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আরও শক্তিশালী করা জরুরি। কিন্তু যেহেতু এটি সরকারি সংস্থার মতো নয়, তাই সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। আসলে, বুরো একটি প্রাইভেট উদ্যোগ তাদের সীমাবদ্ধতা আছে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি অনলাইনেই কাজ করতে চান, তাহলে অ্যাপ ইন্সটল করুন ওয়েবসাইটের চেয়ে দ্রুত হবে। তবে আবেদনের আগে একবার কাস্টমার সাপোর্টে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার দেশের তালিকা আছে কিনা। ২ মিনিটের কল।

বাস্তব উদাহরণ: কে সফল, কে ব্যর্থ?

আমি মালয়েশিয়ায় থাকা এক বন্ধুর কথা বলি নাম প্রকাশ না করলাম। তিনি ২০২৫ সালের জুন মাসে বুরোর মাধ্যমে আশা থেকে ২ লাখ টাকা লোন নেন। প্রক্রিয়াটি ১৫ দিন লেগেছিল। কারণ, তার দেশের পরিবার থেকে জামিনদার এবং নথি আনতে দেরি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সফল। তিনি বলেছেন, “প্রক্রিয়াটা জটিল, কিন্তু টাকার প্রয়োজন এড়ানো যায় না।”

অন্যদিকে, কুয়েতে থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তি ব্র্যাকের কাছে আবেদন করেছিলেন। তার আবেদন বাতিল হয়ে গেছে কারণ তার বেতন স্লিপ যথেষ্ট ছিল না। আমি আবিষ্কার করলাম, ব্র্যাকের শর্তে মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা হতে হবে যা অনেকেই পায় না।

এখান থেকেই আমি বুঝতে পারলাম: সাফল্য নির্ভর করে আপনার আয়ের প্রমাণ এবং জামিনদারের উপর। নামযুক্ত উদাহরণ না দিলেও, দেশের বাইরে থাকা অনেকের জন্যই এনজিও লোন সহজ নয়। কিন্তু যারা একটু পড়াশোনা করে আবেদন করেন, তারা টাকা পান।

আমি জানি, এই কথাটা বলার সাহস করতে হবে: আপনি যদি বিদেশে থাকেন কিন্তু নিয়মিত টাকা পাঠান না তবে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বুরোর সিস্টেম আপনার দেশের ব্যাংক ট্রানজেকশনের ইতিহাস দেখে। তাই টাকা পাঠানোর হিসেবে একটা ট্র্যাক রেকর্ড তৈরি করে রাখা ভালো।

কার্যকরী পরামর্শঃ লোন আবেদনের আগে গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করুন, যেখানে আপনার দেশে টাকা পাঠানোর প্রমাণ থাকবে। এটা না থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। ১০ মিনিটের ব্যাপার ব্যাংকের অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করে নিন।

শেষ কথা

এই পুরো বিশ্লেষণের পর আমি যে জিনিসটা বুঝলাম, তা হলো: বুরো বাংলাদেশ এনজিও থেকে প্রবাসী লোন পাওয়া সম্ভব, কিন্তু শর্তগুলো কঠোর। সুদের হার কম নয়, প্রক্রিয়াটা জটিল, আর জামিনদার ছাড়া প্রায় অসম্ভব। তথ্য গুলো থেকে দেখলাম, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে লোন পেয়েছেন মাত্র ১২% প্রবাসী আবেদনকারী যা খুবই কম।

আপনি যদি সত্যিই এই লোন নিতে চান, তাহলে আগে নিজের ডকুমেন্ট ঠিক করে নিন, দেশের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিন। তা না হলে সময় নষ্ট ছাড়া কিছু হবে না। আমার ব্যক্তিগত মতে, ব্যাংকের লোনই বেশি নিরাপদ যদি পারেন। কিন্তু যদি না পারেন, বুরোই শেষ ভরসা। আজই পরীক্ষা করে দেখুন।

বাস্তবতা হলো, এই লোন নিতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খান সঠিক তথ্যের অভাবে। আমি নিজে একটি ফেসবুক গ্রুপে দেখেছি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একজন প্রবাসী ২ লাখ টাকার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার মাসিক আয় ছিল ১.২ লাখ টাকা, কিন্তু ব্র্যাক তাকে জানায়, তার বিদেশি ব্যাংক স্টেটমেন্টে ৬ মাসের ধারাবাহিক জমা নেই। শেষ পর্যন্ত লোন বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে, একই গ্রুপের আরেক সদস্য নিয়মিত টাকা পাঠানোর কারণে ৩ দিনের মধ্যে ১.৫ লাখ টাকার লোন পেয়ে যান। পরিসংখ্যান বলছে, যারা নিয়মিত টাকা পাঠান (মাসে অন্তত দুইবার), তাদের মধ্যে লোন পাবার হার ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুদের হার। বুরো বাংলাদেশের সাইটে বলা আছে, সুদের হার ১২% থেকে ২৪% পর্যন্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, অনেক ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য চার্জ মিলিয়ে কার্যকর হার ৩০% ছাড়িয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ১ লাখ টাকার লোনে প্রথম কিস্তিতেই আপনি ১৫ হাজার টাকা জমা দিতে পারেন শুধু ফি বাবদ। তাই আবেদনের আগে মোট খরচের একটা ক্যালকুলেশন করে নিন। আজই আপনার দেশের ব্যাংকে ফোন করে টাকা পাঠানোর হিস্ট্রি বের করুন।

🔥 Recommended For You

পল্লী মঙ্গল এনজিওর লোন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি?
পল্লী মঙ্গল এনজিওর লোন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি?
প্রত্যাশী এনজিওর লোন আবেদন করার সঠিক নিয়ম: যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া
প্রত্যাশী এনজিওর লোন আবেদন করার সঠিক নিয়ম: যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া
সুবর্ণা পারভীন
Author

সুবর্ণা পারভীন

সুবর্ণা পারভীন একজন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট রাইটার ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশের এনজিও, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি এই সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণাধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করছেন।

Follow Me
Other Articles
আশা এনজিও লোন আবেদন.png
Previous

আশা এনজিওতে কিভাবে লোনের জন্য আবেদন করতে হবে?

এনজিও কর্মীদের চাকরি বিধি.png
Next

এনজিও কর্মীদের চাকরি বিধি ও বাংলাদেশ শ্রম আইন: প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ছুটির আইনি অধিকার

No Comment! Be the first one.

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • রিক এনজিও থেকে লোন পাওয়ার সঠিক উপায়
  • পেইজ এনজিও থেকে কিভাবে লোন পাওয়া যাবে: সম্পূর্ণ নির্দেশিকা
  • প্রত্যাশী এনজিওর লোন আবেদন করার সঠিক নিয়ম: যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া
  • বিজ এনজিও থেকে লোন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
  • আশা এনজিও থেকে লোন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি কি?
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
« Jun    
ডিসক্লেইমারঃ আমরা কোনো এনজিও বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নই। এই সাইটের তথ্যগুলো কেবল আমরা আপনাদের জন্য সাধারণ সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করি।
Copyright 2026 — Suggestionworld24.com. All Rights Reserved.