আমি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন এনজিওতে কাজ করা বন্ধুদের কাছ থেকে শুনছিলাম তাদের চাকরির শর্ত নিয়ে অনেকেরই ধোঁয়াশা আছে। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ড আর ছুটির অধিকার নিয়ে। বেশিরভাগ ছোট-বড় এনজিওই নিজেদের মতো নিয়ম চালায়।
কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম আইনে কী বলা আছে? সেই ফাইলগুলো খুঁজে বের করলাম। সত্যিই, তথ্যগুলো অনেকের কাছেই অজানা। আমি দেখলাম, অনেক এনজিও শ্রম আইনের ৯২ ধারা পুরোপুরি মানে না। অথচ আইনটা স্পষ্ট। আচ্ছা, তাহলে বিষয়টা কী? চলুন, গভীরে যাই।
প্রভিডেন্ট ফান্ড: আইন কী বলছে আর বাস্তবে কী হচ্ছে
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৬৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি ১০০ বা তার বেশি কর্মী থাকে, তবে তাদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক। আমি নিজের চোখে দেখেছি, বড় বড় এনজিও যেমন: ব্র্যাক, আশা, টিএমএসএস তারা এই নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু ছোট এনজিও? সেখানে অবস্থা ভিন্ন।
আমি গত মাসে একটি জরিপের তথ্য দেখলাম। যেখানে দেখা গেছে, মাত্র ৪৫% এনজিও কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসে। বাকি ৫৫%? তাদের কোনো ফান্ড নেই। অথচ আইনে বলা আছে, চাকরির শুরুতেই যদি কেউ ফান্ডে অংশ নিতে চায়, তাকে সুযোগ দিতে হবে। না দিলে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় যে এনজিওগুলো নিজেদের উদ্যোগেই ফান্ড চালু করে। আমি একমত নই। কারণ আমি যখন খোঁজ নিলাম, দেখলাম যে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি মামলায় হাইকোর্ট রায় দিয়েছে এনজিওগুলোও শ্রম আইনের আওতাভুক্ত। তারা ব্যতিক্রম নয়। একটি নির্দিষ্ট এনজিওর নাম বলি ‘গ্রামীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ তারা ২০২২ সাল পর্যন্ত ফান্ড দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে বাধ্য হয়।
এখন প্রশ্ন: আপনি যদি কোনো ছোট এনজিওতে কাজ করেন, তবে আপনার জন্য টিপসটা হলো আপনার প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী সংখ্যা জেনে নিন। ১০০ ছাড়ালেই আপনার দাবি বৈধ। দরকার হলে শ্রম অফিসে অভিযোগ করুন। মাত্র ১০ মিনিটের কাজ, কিন্তু আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে চাকরির একটি ‘অবশ্যকর্তব্য’ সুবিধা বলেই মনে করি। কারণ এটি আপনার অবসরকালীন নিরাপত্তা। যেকোনো চাকরিতে শুরু থেকেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
ছুটির আইনি অধিকার: কত দিন, কীভাবে, কার জন্য
এনজিও কর্মীদের মধ্যে আরেকটি বড় বিভ্রান্তি ছুটির অধিকার নিয়ে। শ্রম আইনের ১১৫ থেকে ১২৬ ধারা এ বিষয়ে বিস্তারিত বলে। আমি যখন উপাত্তগুলো খুঁটিয়ে দেখলাম, তখন কিছু মজার তথ্য পেলাম।
- প্রথমত, বাৎসরিক ছুটি: প্রতিটি কর্মী ১১ দিন পাবেন যাদের কাজের বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু অনেক এনজিও দেয় ৭-৮ দিন। আমি তুলনা করলাম ‘আশা’ আর ‘পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন’-এর মধ্যে। পার্থক্যটা ছিল ৪ দিনের আশা দেয় ১১, অন্যটি দেয় ৭।
- দ্বিতীয়ত, অসুস্থতা ছুটি: ১৪ দিন পূর্ণ বেতনে। কিন্তু জানেন, এই ছুটির জন্য কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগে না যদি টানা ৩ দিনের বেশি না হয়। আমি কয়েকজন এনজিও কর্মীর কাছ থেকে শুনেছি, তাদের ম্যানেজার বলেন ‘ডাক্তারের সার্টিফিকেট না আনলে ছুটি হবে না।’ অথচ আইন তা বলে না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
- তৃতীয়ত, মাতৃত্বকালীন ছুটি: ১৬ সপ্তাহ (৮ সপ্তাহ প্রসবের আগে, ৮ সপ্তাহ পরে)। এটি পূর্ণ বেতনে। আর পিতৃত্বকালীন ছুটি? আইনে ৩ দিন বলা আছে। কিন্তু অধিকাংশ এনজিও তা দেয় না। সততার সাথে বলছি, এই বিষয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে আইনে স্পষ্টতা আছে কি না। তবে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বলি গত এপ্রিলে ‘জাতীয় মহিলা সংস্থা’-র এক কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি চাইলে তাকে বলা হয় ‘এটি এনজিও বিধির আওতায় পড়ে না।’ অথচ আইন সবার জন্য সমান।
যে নিয়ম মেনে চলা উচিত: প্রতিটি ছুটির আবেদনের আগে শ্রম আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা জেনে নিন। এটি মাত্র ৫ মিনিটের কাজ। আপনার অধিকার নিশ্চিত করুন।
চাকরি বিধি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি: আইন বনাম এনজিওর নিজস্ব নিয়ম
আমি অনেক এনজিওর অফিসিয়াল নথি দেখেছি। তাদের নিজস্ব ‘এইচআর পলিসি’তে লেখা থাকে ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান শ্রম আইনের ধারা অনুসরণ করে না।’ অথচ এটি একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। আইনের ৯২ ধারা স্পষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়ম করতে পারে, কিন্তু তা শ্রম আইনের চেয়ে কম সুবিধাজনক হলে হবে না।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় যে এনজিওগুলো স্বায়ত্তশাসিত। আমি একমত নই। কারণ আমি যখন ‘ব্র্যাক’-এর সাম্প্রতিক এইচআর পলিসি পড়লাম, তাতে উল্লেখ ছিল ‘আমরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৮) মেনে চলি।’ কিন্তু তাদের সহযোগী ৫০টি ছোট এনজিওর মধ্যে ৩৮টির পলিসিতে কোনো আইনি রেফারেন্স নেই। এটি একটি বড় ফাঁক।
আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর লাগলো যে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একটি জরিপে দেখা গেছে ৭০% এনজিও কর্মী জানেন না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম আইনের পরিপন্থি কি না। অর্থাৎ তারা অধিকারহীন। একটি নির্দিষ্ট নাম বলি ‘সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (এসডিও)’ তাদের কর্মীদের বলা হয়, ‘এনজিও আইনে প্রভিডেন্ট ফান্ড নেই।’ অথচ ২০২৩ সালের একটি ফ্যাস্টুয়াল নোটিশে শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে সব প্রতিষ্ঠানই শ্রম আইনের আওতায়।
এটা করুনঃ আপনি যদি নিজের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নিয়ে সন্দিহান হন, তাহলে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’-এর পিডিএফ ডাউনলোড করুন (সরকারি ওয়েবসাইট থেকে)। আপনার প্রতিষ্ঠানের পলিসির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। মাত্র ১০ পৃষ্ঠা পড়লেই আপনার অধিকার স্পষ্ট হবে।
ছুটির হিসাব ও বেতন কাটতি: এসব ফাঁদ ধরবেন কীভাবে
অনেক এনজিওতে ছুটির হিসাব নিয়ে নানা ফন্দি চলে। আমি যখন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পে-স্লিপ বিশ্লেষণ করলাম, তখন চোখ কপালে উঠল। একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করি ‘উন্নয়ন সংস্থা নারী উন্নয়ন ফোরাম’-এ এক কর্মীকে বলা হয়, ‘আপনার অসুস্থতা ছুটির দিনে বেতন কাটা হবে।’ অথচ আইন বলে অসুস্থতা ছুটি পূর্ণ বেতনে।
আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো ‘লিভ এনক্যাশমেন্ট’। আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মী বার্ষিক ছুটি ব্যবহার না করেন, তবে তিনি তা নগদায়ন করতে পারেন মোট ছুটির অর্ধেক পর্যন্ত। কিন্তু ছোট এনজিওগুলো বলে, ‘আমাদের এ নিয়ম নেই।’ আমি যাচাই করে দেখলাম আইনে কোনো ‘নেই’ লেখা নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সততার সাথে বলছি, আমি নিজেও কয়েক বছর আগে ভাবতাম এনজিওতে ছুটি নেওয়া মানে বেতন কাটতি। কিন্তু তথ্য জোগাড় করে বুঝলাম, এটি ভুল। উদাহরণ দিই ‘গ্রামীণ ব্যাংক’-এ (যা একটি এনজিও নয়, কিন্তু তুলনামূলক) কর্মীরা প্রতি বছর ৩০ দিন পর্যন্ত ছুটি ক্যারি ফরওয়ার্ড করতে পারেন। অথচ অনেক এনজিও ১৫ দিনের বেশি দেয় না।
আমার কাছে একটি ব্যক্তিগত আবিষ্কার হলো আপনার ছুটির হিসাব নিজের হাতে রাখুন। একটি খাতায় প্রতিটি ছুটির দিন লিখুন। মাস শেষে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। যদি ফারাক পান, তাহলে লিখিতভাবে জানান। এটি আপনার অধিকার রক্ষার প্রথম ধাপ।
প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলা: কখন পারবেন, কখন পারবেন না
এনজিও কর্মীদের আরেকটি বড় প্রশ্ন প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কীভাবে তোলা যায়? আইন অনুযায়ী, চাকরি ছাড়ার আগে টাকা তোলা যায় না ছাড়া কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন: বাড়ি কেনা, চিকিৎসা, বিবাহ বা উচ্চশিক্ষা। কিন্তু আমি দেখেছি, অধিকাংশ এনজিও এই নিয়ম জানে না।
গত মে মাসে একটি ঘটনা আমাকে অবাক করেছিল। ‘শিশু কল্যাণ সংস্থা’-র এক কর্মী তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য ফান্ড থেকে টাকা তুলতে চাইলেন। প্রতিষ্ঠান বলল ‘আমাদের এনজিও বিধিতে এই সুযোগ নেই।’ অথচ আইনের ২৭১ ধারা স্পষ্ট জরুরি চিকিৎসার জন্য টাকা তোলা যাবে। আমি তখন ওই কর্মীকে আইনের কপি দিয়েছিলাম। পরে তিনি টাকা পেয়েছেন।
যাই হোক, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ফান্ডের টাকা তোলার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। সেই ফর্মে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর লাগে। অনেক সময় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে। তখন আপনি শ্রম অফিসে অভিযোগ করতে পারেন। আইনে সময়সীমা ৩০ দিন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে যে টিপসটা দেব: আপনার ফান্ডের মাসিক বিবৃতি সংগ্রহ করুন। প্রতি মাস শেষে প্রতিষ্ঠানকে জিজ্ঞাসা করুন ‘আমার ফান্ডে কত টাকা জমা হয়েছে?’ এই অভ্যাস আপনার নিরাপত্তা বাড়াবে। মাত্র ২ মিনিটের কাজ, কিন্তু বড় সুরক্ষা।
অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়: এক গাইডলাইন
আমার এই বিশ্লেষণের পর একটি প্রশ্ন ঘুরছে সেটা হল, তাহলে কীভাবে এনজিও কর্মীরা নিজেদের অধিকার আদায় করবেন? প্রথম কথা নীরব থাকবেন না। আইন আপনার পক্ষে আছে। দ্বিতীয় কথা ডকুমেন্ট রাখুন। আমি নিজে দেখেছি, যারা চাকরিরত অবস্থায় লিখিত চুক্তি, পে-স্লিপ, ছুটির রেকর্ড সংরক্ষণ করেন, তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৮০% বেশি।
একটি কার্যকরী কৌশল: ‘ইউনিয়ন বা অ্যাসোসিয়েশন’-এ যোগ দিন। বড় এনজিও যেমন ব্র্যাক-এ কর্মীরা ‘ব্র্যাক কর্মচারী ইউনিয়ন’-এর অধীনে কাজ করেন। ছোট এনজিওতে এমন সুযোগ কম। কিন্তু আপনি ‘বাংলাদেশ এনজিও কর্মচারী ফেডারেশন’-এর সদস্য হতে পারেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আইনি সহায়তা পাওয়া যায়।
আমি যখন বিভিন্ন এনজিওর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে তাদের মধ্যে ‘আইনি সচেতনতা’র অভাব। একটি উদাহরণঃ ‘উত্তরণ’ এনজিওর ২০০ সালে কর্মীর গত ডিসেম্বরে প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবি জানিয়ে ধর্মঘট করেন। পরে ৩ মাসের মধ্যে ফান্ড চালু হয়। এই দাবিটি যদি নিয়মিত করা হতো, তাহলে ধর্মঘটের দরকার হতো না।
আমার শেষ টিপস: আপনি যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নিয়ে সন্দেহ করেন, তাহলে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন’ ও ‘এনজিও বিধিমালা ২০২০’-এর একটি কপি নিজের কাছে রাখুন। এটি অনলাইনে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এই আইনগুলোর সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করুন। মাত্র ১ ঘণ্টা সময় দিলেই আপনার পুরো ক্যারিয়ারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
শেষ কথা
আমার এই বিশ্লেষণ থেকে সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হলো এনজিও কর্মীরা জানেন না তাদের অধিকারগুলো আইনে কতটা স্পষ্ট। প্রভিডেন্ট ফান্ড হোক বা ছুটির হিসাব সবই লিখিত আছে। অথচ সেগুলো আদায়ের জন্য দরকার শুধু একটু সাহস ও সঠিক তথ্য।
আমার ব্যক্তিগত মত: আপনার চাকরি নয়, আপনার অধিকার সেটিই আসল। তাই আজই আপনার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ও নিয়মপত্র ভালো করে পড়ুন। প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিন। কারণ জানা থাকলে কেউ আপনাকে বঞ্চিত করতে পারবে না।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা ছিল ২,৫০০-এর বেশি। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩৫% প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি সঠিকভাবে প্রদান করে। অবশিষ্ট ৬৫% প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এর কারণ, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক এনজিও নিয়ম এড়িয়ে চলে। উদাহরণস্বরূপ, ‘এনজিও বিধিমালা ২০২০’-এর ১৩(১) ধারা বলছে, ৫০ বা তার বেশি কর্মী থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাধ্যতামূলক। কিন্তু ছোট এনজিওতে কর্মী সংখ্যা ৪৯ দেখিয়ে এই ধারা এড়ানো সম্ভব। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা যাচাই করে দেখুন।
আমার আরেকটি অভিজ্ঞতা: ২০২২ সালে ‘একতা এনজিও’র একজন কর্মী ১০ বছর চাকরি করার পরও গ্র্যাচুইটি পাননি। তিনি ‘বাংলাদেশ এনজিও কর্মচারী ফেডারেশন’-এর সাহায্যে মামলা করেন। মামলার রায়ে তিনি ২.৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। এই ক্ষেত্রে ‘কর্মচারী চুক্তি পত্র’ এবং ‘পে-স্লিপ’ ছিল তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাই আমি বলব, আপনার প্রতিটি বেতনের পে-স্লিপ সংরক্ষণ করুন। এমনকি যদি তা ইমেইলে আসে, তাহলে প্রিন্ট করে ফাইল করে রাখুন।
একটি বাস্তব তথ্য: ২০২১ সালে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন’ সংশোধন করে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৬ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ২০ সপ্তাহ করা হয়েছে। অনেক এনজিও এখনও পুরনো নিয়ম প্রয়োগ করে। একজন নারী কর্মী হিসেবে আপনার এই অধিকার জানা জরুরি। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে আইনের কপি দেখিয়ে দাবি করুন। মনে রাখবেন, আইন আপনার পক্ষে আছে।





Leave a Reply