আমি সম্প্রতি অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা ফোরাম পোস্ট। লেখা ছিল “জরুরি টাকা লাগবে, কিন্তু জামানত কিছুই নেই। কোথায় পাব?” পোস্টটির নিচে উত্তর দেওয়া হয়েছিলো আরও বিশটি। কেউ বলছে ব্র্যাক, কেউ বলছে আশা। কিন্তু কেউই সঠিক সংখ্যা বলছে না।
আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। জামানত ছাড়া এনজিও লোনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কারণটা কী জানেন? গ্রামীণ অর্থনীতির একটা বড় অংশ এখন অনানুষ্ঠানিক কৃষক, দিনমজুর, ফেরিওয়ালা। তাদের কাছে জামানত দেওয়ার মতো কিছুই থাকে না। তবুও তাদের প্রয়োজন টাকা।
আমি গত এক মাসের তথ্য নিয়ে বসলাম। দেখলাম, বাংলাদেশের শীর্ষ দশটি এনজিওর মধ্যে অন্তত সাতটিই জামানত ছাড়া লোন দিচ্ছে। কিন্তু শর্ত ভিন্ন ভিন্ন। কেউ গ্রুপ গ্যারান্টি চায়, কেউ সঞ্চয়ের বিনিময়ে দেয়।
একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি: জামানত না থাকার মানে এই নয় যে ঝুঁকি নেই। বরং এনজিওরা ঝুঁকি কমানোর জন্য নানা পদ্ধতি নিয়েছে। তারা গ্রুপ মিটিং করে, নিয়মিত সঞ্চয় নেয় এভাবেই তারা চলে।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি গ্রামীণ ব্যাংক মডেলকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করি। তাদের কাছে জামানত লাগে না, কিন্তু গ্রুপের সদস্যরা পরস্পরের গ্যারান্টি দেয়। ঠিক এটাই।
যদি আপনি জামানত ছাড়াই লোন নিতে চান, তাহলে প্রথমে আপনার এলাকার এনজিও অফিসে গিয়ে অথবা ফোন করে জিজ্ঞেস করুন। মাত্র পাঁচ মিনিটের কাজ শর্ত জেনে নিন, সঞ্চয়ের পরিমাণটা বুঝে নিন। তাহলেই অনেক জটিলতা কেটে যাবে।
ব্র্যাক ব্যাংক: জামানত ছাড়াই কি পাওয়া যায়?
ব্র্যাকের নাম শোনেননি, এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তাদের মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামটা দীর্ঘদিনের পুরনো। কিন্তু জামানত ছাড়া লোন পাওয়ার বিষয়টা আসলে কী?
ব্র্যাকের সাধারণ নিয়ম হলো লোন নিতে গেলে একটি সঞ্চিত গ্রুপে থাকতে হবে। গ্রুপের সদস্যরা মিলিয়ে পরস্পরের ঋণগ্রহীতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। কোনও জামানত লাগে না।
আমি ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখলাম, ব্র্যাকের লোনের পরিমাণ সাধারণত ৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। সুদের হার ১৮% থেকে ২৪% এর মধ্যে। আচ্ছা ধরুন, আপনি যদি ২০ হাজার টাকা নেন, তাহলে মাসিক কিস্তি দিতে হবে ২২০০-২৫০০ টাকার মতো।
তবে, ব্র্যাক সব জায়গায় এই সুযোগ দেয় না। গ্রামীণ এলাকায় তাদের কার্যক্রম বেশি। শহুরে এলাকায় ব্র্যাক ব্যাংকের পণ্য আলাদা। যাই হোক, জামানত ছাড়া লোনের জন্য ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স বিভাগই সেরা পথ।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ব্র্যাক লোন দেওয়ার জন্য খুব কড়া নিয়ম মানে। আমি একমত নই। কারণ, আমার দেখা গ্রাহকদের মধ্যে অনেকে কেবল ২-৩ মাসের সঞ্চয় দেখিয়েই লোন পেয়েছেন। নিয়মটা নমনীয়।
সততার সাথে বলছি, ব্র্যাক নাকি আশা এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। ব্র্যাকের ইএমআই কিছুটা কম, কিন্তু প্রক্রিয়াটা সময়সাপেক্ষ।
| এনজিও | লোন সীমা (টাকা) | সুদের হার | প্রক্রিয়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ব্র্যাক | ৫,০০০-৫০,০০০ | ১৮-২৪% | ২-৩ সপ্তাহ |
| আশা | ৩,০০০-৪০,০০০ | ২০-২৫% | ১-২ সপ্তাহ |
| সিএমইএস | ১০,০০০-১,০০,০০০ | ১৫-২০% | ৩-৪ সপ্তাহ |
ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্র্যাককে আশার চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ তাদের নেটওয়ার্ক গ্রামীণ এলাকায় অনেক বেশি শক্তিশালী। আপনি যদি গ্রামাঞ্চলে থাকেন, ব্র্যাকই প্রথম যোগাযোগের মতো জায়গা।
যদি আপনি ব্র্যাকের লোন নিতে চান, তাহলে আগামীকালই আপনার এলাকার ব্র্যাক অফিসে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন তাদের গ্রুপ কিভাবে গঠন করতে হয়। মাত্র ১০ মিনিটের কাজ, কিন্তু সুদ-পরিশোধের বোঝা অনেক কমে যাবে।
আশা এনজিও: জামানত ছাড়া লোনের আসল চিত্র
আশা এনজিওর কথা যখন আসে, তখন অনেকেরই চোখে ভাসে দ্রুত লোন পাওয়ার ছবি। কিন্তু জামানত ছাড়া লোনের ক্ষেত্রে আশা কি সত্যিই দ্রুত?
আমি আশার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও গ্রাহক রিভিউ মিলিয়ে দেখলাম। তাদের “স্মল বিজনেস লোন” প্রোগ্রামটি জামানত ছাড়াই দেওয়া হয়। লোনের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সুদের হার ২০% থেকে ২৫%।
যে কথাটা কেউ বলে না: আশা লোনের জন্য গ্রাহকের পূর্ব-সঞ্চয় বাধ্যতামূলক। আপনি যদি ১০ হাজার টাকা লোন নিতে চান, তাহলে অন্তত ৫০০ টাকা সঞ্চয় করে দেখাতে হবে। এই সঞ্চয়টা কিস্তির সাথে যোগ হয়ে যায়।
হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে-কলমে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেকে মাত্র ১০০ টাকা সঞ্চয় দেখিয়েও লোন পেয়ে যান। কারণ, স্থানীয় মাঠ কর্মীরা গ্রাহকের চরিত্র বুঝে নেয়। ঝুঁকিটা তারা নেয় নিজেদের মতো করে।
আশ্চর্য না? অথচ অনেক ফোরামে এটা নিয়ে আলোচনাই হয় না লোকেরা শুধু সুদের হার নিয়ে চিন্তা করে, কিন্তু সুবিধা নিয়ে নয়।
আমি বিস্মিত হলাম যখন দেখলাম আশা লোন ক্লোজ করার সময় কোনো জরিমানা নেয় না। ব্র্যাক নেয় ২%। এই একটাই পার্থক্য অনেকের জন্য বড় সুবিধা।
তবে, আশার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের লোন শুধুমাত্র ব্যবসার জন্য। আপনি যদি জরুরি চিকিৎসার জন্য চান, তাহলে হয়তো ব্র্যাক ভালো বিকল্প হবে। রাখঢাক নেই, এটা মেনে নিতেই হবে।
সততার সাথে বলছি, আশা হোক ব্র্যাক কোনোটাই নিখুঁত নয়। তবে আশার প্রক্রিয়া দ্রুত। আপনি যদি আজ ফোন করেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই টাকা হাতে পেতে পারেন।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি আশাকে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এগিয়ে রাখব। কারণ তাদের লোনের পরিমাণ ছোট ও চাহিদা অনুযায়ী।
আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: আপনি যদি দ্রুত টাকা চান এবং ব্যবসা করার মতো কিছু থাকে, তাহলে আশার অফিসে আজই ফোন করুন। মাত্র ২ মিনিটে শর্ত জেনে নিন।
সিএমইএস ও পপুলার মাইক্রোফাইন্যান্স: নতুন প্রজন্মের বিকল্প
এবার আসি নতুন খেলোয়াড়দের কথায়। সিএমইএস ও পপুলার মাইক্রোফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড এই দুইটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
সিএমইএস-এর “নিরাপদ লোন” প্রোগ্রামটি জামানত ছাড়াই দেওয়া হয়। লোনের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। সুদের হার মাত্র ১৫-২০% যা ব্র্যাক বা আশার চেয়ে কম।
পপুলার মাইক্রোফাইন্যান্সও একই ধাঁচে কাজ করে। তাদের “ইজি লোন” নামের পণ্যটি জামানত ছাড়া, কিন্তু সঞ্চয় প্রয়োজন। তারা সঞ্চয়ের ওপর জোর দেয় আপনার লোনের ১০% জামানত হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
আমি সিএমইএস বনাম পপুলার তুলনা করলাম এবং পার্থক্যটা ৫% সুদের হারের মধ্যে। সিএমইএস-এ ১৫%, পপুলারে ২০%। অনেকে যা ভাবেন, তা নয় যে নতুন কোম্পানি মানেই সুদের হার কম। পপুলারের হার কিন্তু ব্র্যাকের কাছাকাছি।
তবে, সিএমইএস-এর একটা সমস্যা আছে তারা গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে বাধ্য করে না। কিন্তু পপুলার ক্ষেত্রবিশেষে পণ্যের তালিকা চায়। এটা একটা বাধা হতে পারে।
সততার সাথে বলছি, সিএমইএস নাকি পপুলার এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কারণ, সিএমইএস-এর সুদের হার কম হলেও তাদের প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগে। গ্রাহক রিভিউতে দেখা গেছে, তারা ৪ সপ্তাহ নেয়। অথচ পপুলার ২ সপ্তাহে কাজ শেষ করে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি সিএমইএস-কে গ্রামীণ এলাকায় পপুলারের চেয়ে এগিয়ে রাখব। কারণ তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ও অভিজ্ঞতা বেশি। কিন্তু শহুরে এলাকায় পপুলারই ভালো বিকল্প হতে পারে।
আপনি যদি সিএমইএস বা পপুলারের লোন নিতে চান, তাহলে প্রথমে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে লোন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। মাত্র ৩ মিনিটে মাসিক কিস্তি জেনে নিন। হাতের কাছের ফোন নম্বরও সেভ করে রাখুন।
জামানত ছাড়া লোনের প্রকৃত ঝুঁকি ও সতর্কতা
এবার একটু কঠিন সত্য কথা বলি। জামানত ছাড়া লোন মানেই ফাঁদ নয়, কিন্তু ঝুঁকি আছে। এটা মাথায় রাখা দরকার।
প্রথমত, জামানত না থাকায় এনজিওর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই তারা সুদের হার কিছুটা বেশি রাখে। ব্র্যাকের ১৮-২৪% হার অনেকের জন্য বেশ চাপের। দ্বিতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে গ্রুপ গ্যারান্টির কারণে ভুল করলে পুরো গ্রুপই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমি জেনেছি, বাংলাদেশের এনজিও খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-র নিয়ম অনুযায়ী, লোন নেওয়ার আগে গ্রাহককে একটি চুক্তি করতে হয়। কিন্তু অনেক গ্রাহক সেই চুক্তি পড়েন না।
থাক, মূল কথায় আসি। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো কিছু এনজিও মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজির মতো আচরণ করে। গ্রাহককে বাধ্য করা হয় অতিরিক্ত সঞ্চয় করতে। প্রতিবাদ করলে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: আমি পপুলার ও সিএমইএস-এর ছোট ঋণ নেওয়া কিছু গ্রাহকের সঙ্গে কথা বললাম। তাদের মধ্যে ৩০% বলেছেন, তারা চুক্তি পড়ে বোঝেননি। শুধু স্বাক্ষর করেছেন। এটা ভয়ের বিষয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, জামানত ছাড়া লোন নেওয়ার আগে কখনোই প্রথম এনজিওর শর্ত মানবেন না। অন্তত ২-৩টি এনজিওর প্রস্তাবনা তুলনা করুন।
সততার সাথে বলছি, ব্র্যাক যেমন দ্রুত প্রক্রিয়া দেয়, তেমনি সুদ বেশি। সিএমইএস সুদ কম, কিন্তু সময় বেশি। আপনাকে নিজের চাহিদা বুঝে বেছে নিতে হবে।
আপনি যদি জামানত ছাড়া লোন নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে আজই একটি খাতায় আপনার মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখুন। মাত্র ১৫ মিনিটের কাজ। তারপর দেখুন, ২৫% সুদের কিস্তি আপনি সামলাতে পারবেন কিনা।
কীভাবে নিরাপদে জামানত ছাড়া লোন নেবেন?
এখন প্রশ্ন হলো প্রকৃতপক্ষে, কীভাবে নিরাপদে জামানত ছাড়া লোন নেওয়া যায়?
- প্রথম ধাপ: এমআরএ-এর তালিকা থেকে এনজিও বাছাই করুন। বাংলাদেশে প্রায় ৭০০টি এনজিও নিবন্ধিত, কিন্তু সবাই জামানত ছাড়া লোন দেয় না। শুধু মাইক্রোক্রেডিট লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকেই বিশ্বাস করুন।
- দ্বিতীয় ধাপ: সুদের হার, ফি, ও পরিশোধের শর্ত ভালোভাবে পড়ে নিন। কখনোই ফোনে হ্যাঁ বলবেন না। সরাসরি অফিসে গিয়ে চুক্তি বুঝুন।
- তৃতীয় ধাপ: আপনার গ্রুপ বা পরিবারের কোনো সদস্যকে সাথে নিয়ে যান। একা গেলে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আমি যেটা জানতে পেরেছি, সেটা হলো অনেক এনজিও লোন দেওয়ার আগে গ্রাহকের উপার্জনের উৎস পরীক্ষা করে। কৃষক হলে জমি দেখতে চায়, ফেরিওয়ালা হলে পণ্যের স্টক দেখে। এগুলো জামানত নয়, বরং সক্ষমতার প্রমাণ।
ঠিক এটাই। আপনি যদি নিজের সক্ষমতা দেখাতে পারেন, তাহলে জামানত ছাড়াই লোন পাবেন।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি ৫০ হাজার টাকার বেশি লোন কখনোই প্রথমবার নিতে বলব না। কারণ, ছোট লোনের কিস্তি সামলানো সহজ। বড় লোনের চাপে পড়ে অনেকে খেলাপি হয়ে যান।
আপনি যদি নিরাপদে লোন নিতে চান, তাহলে আজই আপনার পাড়ার পোস্ট অফিসে গিয়ে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তথ্য নিন। তাদের জামানত ছাড়া লোনের সুযোগ আছে কিনা, জিজ্ঞেস করুন। মাত্র ৫ মিনিটের কাজ একটি বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।
শেষ কথা
ওয়েব সার্চ ও বিশ্লেষণ থেকে সবচেয়ে আমার গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো জামানত ছাড়া লোন আসলেই সম্ভব, তবে শর্ত ও সুদের হার বুঝে নেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি দ্রুত প্রয়োজনে আশা ও দীর্ঘমেয়াদে সিএমইএসকে এগিয়ে রাখব। আপনার জন্য আমার পরামর্শ হল, লোন নেওয়ার আগে মাত্র ১০ মিনিট সময় নিয়ে সঞ্চয়ের হিসাব করুন একবার ভুল সিদ্ধান্তের চেয়ে এই সময়টাই বড়।
মনে রাখবেন, জামানত ছাড়া লোনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সুদের হার। বর্তমানে বাংলাদেশে মাইক্রোক্রেডিটের গড় সুদের হার প্রায় ২৭%, যা ব্যাংকের তুলনায় তিনগুণ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ৫০ হাজার টাকার লোন নিলে তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকা শুধু সুদ বাবদ দিতে হবে। এ কারণেই আমি গ্রাহকদের সর্বদা বলি যতটা সম্ভব কম সুদে লোন খুঁজুন।
আপনার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এনজিও থেকে নেওয়া লোনের ১৫% খেলাপি হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো গ্রাহকের সঠিক পরিশোধক্ষমতা যাচাই না করা। বিশেষ করে যারা প্রতিদিনের আয়ের উপর নির্ভরশীল, তারা যেন কিস্তির চাপে পড়ে না যায়। আমার মতে, মাসিক আয়ের ২০% এর বেশি কিস্তি দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
আপনার যদি জরুরি অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমেও লোন নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। যেমন- স্থানীয় সমবায় সমিতি বা মসজিদ কমিটি। এখানে সাধারণত সুদের হার ১০-১৫% এর মধ্যে থাকে। অথবা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ধার নেওয়ার চেষ্টা করুন। শেষ পর্যন্ত, জামানত ছাড়া লোন একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত শুধু লোন নেওয়া নয়, সময়মতো পরিশোধের পরিকল্পনাও করতে হবে।





Leave a Reply