সমাজসেবা অধিদপ্তরে এনজিও নিবন্ধন করার নিয়ম
নিজ এলাকায় দরিদ্র মানুষের সহায়তা, শিশুদের শিক্ষা কিংবা প্রবীণদের কল্যাণে একটি সংগঠন গড়তে চাইলে শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই হয় না। বাংলাদেশে এ ধরনের বহু স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়।
নিবন্ধনের প্রস্তুতিতে অনেকে প্রথমেই জানতে চান, কোথায় আবেদন করবেন, কত টাকা লাগবে এবং কী কী কাগজ জমা দিতে হবে। একটি নথির সঙ্গে অন্যটির অসংগতি থাকলে যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এই নির্দেশিকায় অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরে এনজিও নিবন্ধন করার নিয়ম ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন কী এবং কারা আবেদন করতে পারেন?
স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এবং ১৯৬২ সালের বিধিমালার আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন নিবন্ধন করে। নির্ধারিত কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী সংস্থা, সমিতি, ক্লাব, পাঠাগার ও বেসরকারি এতিমখানা প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে এই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে।
আইনের তফসিলে শিশু, যুব ও নারীকল্যাণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, সামাজিক শিক্ষা, রোগী ও প্রবীণদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং সমাজকর্মে প্রশিক্ষণসহ ১৫টি ক্ষেত্র রয়েছে। অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ৭১ হাজার ১১৪টি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উল্লেখ আছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৫৬২টি বেসরকারি এতিমখানা।
আবেদন শুরুর আগে যে প্রস্তুতি নিতে হবে
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নিয়ে সাধারণ সভা করে সংস্থার প্রস্তাবিত নাম ও উদ্দেশ্য অনুমোদন করুন। এরপর কার্যকরী পরিষদ গঠন করে বাংলায় গঠনতন্ত্র তৈরি করুন। এতে সদস্যপদ, নির্বাচন, সভা, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব বণ্টনের নিয়ম স্পষ্ট করুন। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তারা একই পরিবারের সদস্য নন এ মর্মে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্রও প্রস্তুত রাখতে হবে।
নামের ছাড়পত্র ও ফরম-বি সংগ্রহের নিয়ম
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধনের প্রথম ধাপ হলো প্রস্তাবিত নামের ছাড়পত্র সংগ্রহ। এজন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হয়।
সভার কার্যবিবরণী, ছাড়পত্র, গঠনতন্ত্র এবং আবেদনপত্রে নামের বানান যেন একই থাকে। নামের ছাড়পত্র পেয়েই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে মনে করা যাবে না; চূড়ান্ত সনদ আলাদা যাচাইয়ের পর দেওয়া হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরে এনজিও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সরকারি তালিকা অনুযায়ী আবেদনপত্রের সঙ্গে একাধিক ধরনের প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে সর্বশেষ তালিকা মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নথির অনুলিপি ও প্রত্যয়নের ধরন সম্পর্কে অতিরিক্ত নির্দেশনা থাকতে পারে। সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন:
- নামের ছাড়পত্র, পূরণকৃত ফরম-বি এবং সরকারি নিবন্ধন ফি জমার ট্রেজারি চালান।
- বাংলায় গঠনতন্ত্রের পাঁচ কপি; প্রতিটি পৃষ্ঠায় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
- নাম নির্ধারণ, গঠনতন্ত্র ও কার্যকরী পরিষদ অনুমোদনের সভাগুলোর সত্যায়িত কার্যবিবরণী এবং সভায় উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা ও সিদ্ধান্তের খাতার সত্যায়িত অনুলিপি।
- কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের নাম, পদবি, পেশা, বর্তমান ঠিকানা ও স্বাক্ষরসহ তালিকা; সাধারণ সদস্যদের প্রয়োজনীয় পরিচয়, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ও স্বাক্ষরসহ পৃথক তালিকা।
- সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুই কপি করে সত্যায়িত পাসপোর্ট আকারের ছবি; কার্যকরী পরিষদের তালিকার সঙ্গে সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের এক কপি করে সত্যায়িত ছবি।
- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিবরণ, প্রতিষ্ঠাতাদের আগের সেবামূলক কাজের বিবরণ (থাকলে), সাধারণ সভায় অনুমোদিত সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের বাজেট ও আসবাবপত্রের তালিকা।
- সংস্থার নামে ব্যাংক হিসাবের বিবরণ ও ব্যাংক ব্যবস্থাপকের প্রত্যয়নপত্র; কার্যালয়ের জমির দলিল অথবা নির্ধারিত স্ট্যাম্পে ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
- স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র এবং সম্পর্কবিষয়ক প্রত্যয়নপত্র।
- কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তারা একই পরিবারের সদস্য নন এবং সদস্যদের স্বাক্ষর সঠিক এ মর্মে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র বা অঙ্গীকারনামা।
- অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন বা বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণের তথ্য নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্ধারিত অঙ্গীকারনামা।
প্রয়োজনে সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও অতিরিক্ত তথ্য দেখানোর প্রস্তুতি রাখুন।
আবেদন জমা দেওয়ার ধাপ ও সরেজমিন যাচাই
প্রথমে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সভায় সংস্থার নাম ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নামের ছাড়পত্র নিন। এরপর গঠনতন্ত্র, কার্যকরী পরিষদ, সদস্যতালিকা, কার্যালয়ের কাগজপত্র ও অন্যান্য সংযুক্তি প্রস্তুত করুন। সবশেষে পূরণকৃত ফরম-বি ও নির্ধারিত ফি জমার চালানসহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন জমা দিন।
এরপর কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনমতো তদন্ত করতে পারে। উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা সংস্থার কার্যালয়, সদস্যদের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন। সন্তোষজনক প্রতিবেদন ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়।
নিবন্ধন ফি কত এবং কত দিনে সনদ পাওয়া যায়?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন ফি ৫,০০০ টাকা এবং নির্ধারিত ট্রেজারি চালান খাত ১-২৯৩১-০০০০-১৮৩৬ উল্লেখ রয়েছে। কিছু স্থানীয় কার্যালয়ের নির্দেশনায় অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন করের চালানের কথাও পাওয়া যায়। তাই অর্থ জমার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে বর্তমান খাত, করের প্রযোজ্যতা ও মোট পরিমাণ নিশ্চিত করুন।
মন্ত্রণালয়ের সেবা-সময়সীমায় পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য ২০ কর্মদিবস এবং নামের ছাড়পত্রের জন্য দুই কর্মদিবস উল্লেখ আছে। তবে কিছু জেলা কার্যালয়ের প্রকাশিত সময়সীমা আলাদা এবং নিরাপত্তা যাচাই বা অসম্পূর্ণ নথির কারণে বাস্তবে বেশি সময় লাগতে পারে। এই সময়কে নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সনদ দেওয়ার তারিখ মনে করা ঠিক নয়।
সমাজসেবা নিবন্ধন ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধনের পার্থক্য
দুটি নিবন্ধন এক নয়। সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন নিবন্ধন করে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে অনুদান নিয়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর বিধান প্রযোজ্য। ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রণীত সংশোধনী আইনেও সংস্থা বা এনজিওর জন্য ব্যুরোর নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা বহাল রয়েছে।
ব্যুরোর নিজস্ব নির্দেশনায় দেশীয় এনজিওর প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ৫০,০০০ টাকা দেখানো হয়েছে, যা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৫,০০০ টাকার ফি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে শুধু সমাজসেবা অধিদপ্তরের সনদ দিয়ে বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি পাওয়া যায় না।
নিবন্ধনের পর যেসব দায়িত্ব পালন করতে হবে
সংস্থার নামে পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা, বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া আইনগত দায়িত্বের অংশ। নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনমতো নথি ও কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারে।
গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের আগে অনুমোদন নিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কার্যালয়ের ঠিকানা বদলালে সাত দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা রয়েছে। কার্যকরী পরিষদের পরিবর্তন ও একাধিক জেলায় কাজ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। অনিয়ম হলে পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা সংস্থা বিলুপ্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
আবেদন প্রত্যাখ্যান এড়াতে বাস্তবসম্মত কিছু কৌশল
নথিপত্র তিনভাবে মিলিয়ে দেখুন: পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং আর্থিক তথ্য। উদাহরণস্বরূপ, সভায় যে নাম অনুমোদিত হয়েছে, ব্যাংকের প্রত্যয়ন ও গঠনতন্ত্রেও সেটি একইভাবে লেখা থাকা উচিত।
একটি সহজ পদ্ধতি হলো জমার আগে আলাদা সূচিপত্র তৈরি করে প্রতিটি সংযুক্তির পাশে পৃষ্ঠাসংখ্যা লেখা। এতে নথি অসম্পূর্ণ থাকার ঝুঁকি কমে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে লিখিত কারণ সংগ্রহ করুন। অধ্যাদেশের ছয় নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
২০২৬ সালে নিয়ম যাচাইয়ের জন্য সরকারি উৎস
আবেদনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন নির্দেশনা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য, ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশ এবং ১৯৬২ সালের বিধিমালার সরকারি পৃষ্ঠা মিলিয়ে দেখুন। বিদেশি অনুদানের জন্য এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন নির্দেশনা, ২০১৬ সালের আইনের হালনাগাদ পাঠ ও ২০২৬ সালের সংশোধনী আইন দেখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১. সমাজসেবা অধিদপ্তরে এনজিও নিবন্ধন করতে কোথায় যেতে হবে?
প্রাথমিকভাবে সংগঠনের কার্যালয় যে এলাকায় হবে, সেই এলাকার উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। নামের ছাড়পত্র ও পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধনের আবেদন সাধারণত সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। সরাসরি যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সর্বশেষ তালিকা জেনে নিলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমবে।
২. কোনো সংগঠনের নাম অনুমোদন পেলেই কি কার্যক্রম শুরু করা যাবে?
নামের ছাড়পত্র মূলত প্রস্তাবিত নাম ব্যবহারের প্রাথমিক অনুমোদন। এটি নিবন্ধন সনদের বিকল্প নয়। নিবন্ধনযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা হিসেবে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। তাই নাম অনুমোদনের পর ফরম-বি, কাগজপত্র এবং যাচাইয়ের পরবর্তী ধাপ শেষ করুন।
৩. এনজিও নিবন্ধন করতে কি নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য বাধ্যতামূলক?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সাধারণ কাগজপত্রের তালিকায় সব সংগঠনের জন্য একক সদস্যসংখ্যা উল্লেখ নেই। তাই সাধারণ পরিষদ ও কার্যকরী পরিষদ গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বর্তমান শর্ত ও গঠনতন্ত্রের নমুনা যাচাই করুন। প্রত্যেক সদস্যের সম্মতি, পরিচয় ও স্বাক্ষর সঠিক রাখুন।
৪. সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধনে মোট কত টাকা প্রয়োজন?
প্রকাশিত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধনের মূল সরকারি ফি ৫,০০০ টাকা। এর বাইরে প্রযোজ্য কর, স্ট্যাম্প, নথি সত্যায়ন, ছাপানো এবং কার্যালয়সংশ্লিষ্ট খরচ থাকতে পারে। স্থানীয় নির্দেশনায় ভিন্নতা থাকায় মোট ব্যয়ের নির্ভুল হিসাব সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নিন। সরকারি অর্থ কেবল নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিয়ে রসিদ সংরক্ষণ করুন।
৫. নিবন্ধন পেতে সাধারণত কত দিন সময় লাগে?
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সেবা-প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণাঙ্গ আবেদনের পর ২০ কর্মদিবসের কথা রয়েছে। তবে এটি সব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত সময় নয়। নথিতে ঘাটতি, মাঠতদন্ত, নিরাপত্তাসংক্রান্ত যাচাই কিংবা সংশোধনী চাওয়ার কারণে সময় বাড়তে পারে। আবেদন জমার তারিখ ও প্রাপ্তিস্বীকার রেখে নির্দিষ্ট বিরতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অগ্রগতি জানুন।
৬. নিবন্ধন আবেদন কি সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যায়?
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মূল নির্দেশনায় জেলা কার্যালয় থেকে ফরম-বি সংগ্রহ ও কাগজপত্র জমার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো অনলাইন ব্যবস্থা চালু বা পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অফিসে যাচাই করুন।
৭. ভাড়া করা কার্যালয় থাকলে কি আবেদন করা সম্ভব?
হ্যাঁ, সরকারি নথির তালিকায় নিজস্ব জমির কাগজের পাশাপাশি কার্যালয় ভাড়ার চুক্তিপত্রের সুযোগ রয়েছে। চুক্তি যথাযথ স্ট্যাম্পে তৈরি এবং প্রয়োজনমতো সত্যায়িত হওয়া উচিত। আবেদনপত্রের ঠিকানা ও চুক্তির ঠিকানা এক রাখুন। মাঠপর্যায়ে যাচাই হলে কার্যালয়টি বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
৮. সমাজসেবা নিবন্ধন থাকলে কি বিদেশি অনুদান নেওয়া যাবে?
শুধু এই সনদ যথেষ্ট নয়। বৈদেশিক অনুদানে স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রকল্প পরিচালনা করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রযোজ্য নিবন্ধন ও অনুমোদন অনুসরণ করতে হয়। বিদেশি দাতার প্রতিশ্রুতি পেলেও অর্থ গ্রহণের আগে সংশোধিত আইন ও ব্যুরোর নির্দেশনা যাচাই করুন। দুটি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ফি এবং প্রয়োজনীয় নথিও ভিন্ন।
৯. নিবন্ধন বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কী করব?
প্রথমে কর্তৃপক্ষের লিখিত সিদ্ধান্ত ও কারণ সংগ্রহ করুন। আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ছয় নম্বর ধারায় ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে নিবন্ধিত সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা বিলুপ্তি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া।
১০. নিবন্ধনের পরে কি প্রতি বছর কোনো প্রতিবেদন দিতে হয়?
হ্যাঁ, নিবন্ধিত সংস্থাকে নির্ধারিত নিয়মে বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত হিসাব কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয় এবং সাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করতে হয়। সদস্যদের সভা, অর্থের রসিদ ও উপকারভোগীর সেবার নথিও সুশৃঙ্খলভাবে রাখুন। প্রতিবেদন দাখিলের নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করুন।
উপসংহার
সমাজসেবা অধিদপ্তরে এনজিও নিবন্ধনের মূল ভিত্তি হলো উপযুক্ত সমাজকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য, সঠিক গঠনতন্ত্র, বিশ্বাসযোগ্য সদস্যতালিকা এবং সম্পূর্ণ আবেদনপত্র। নামের ছাড়পত্র, ফরম-বি, সরকারি ফি ও মাঠতদন্তের ধাপ বুঝে এগোলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমে। নিবন্ধনের পরও স্বচ্ছ হিসাব, নিয়মিত প্রতিবেদন ও আইন মেনে কাজ করাই একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি।

