গ্রামীণ নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ দেয় কোন কোন এনজিও?
বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের আয় বাড়ানো ও নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশিক্ষণ শুধু সেলাই বা হস্তশিল্পে সীমিত নয়; কৃষি, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার পরিচালনা, আর্থিক জ্ঞান ও বাজারসংযোগেও বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৫ সালের মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার প্রায় ৩৮.৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার প্রায় ৮০.৪ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ নারীদের জন্য এমন প্রশিক্ষণ বিশেষভাবে উপযোগী, যেখানে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি বাজার সম্পর্কে ধারণা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং শেখা দক্ষতা কাজে লাগানোর বাস্তব দিকনির্দেশনা থাকে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী ব্র্যাক, টিএমএসএস, আরডিআরএস বাংলাদেশ, ফ্রেন্ডশিপ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বিভিন্ন এলাকায় নারী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। তবে সব প্রশিক্ষণ সব জেলায় বা সারা বছর চালু থাকে না। প্রকল্প, বয়স, এলাকা এবং অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্মসূচি ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা উচিত।
গ্রামীণ নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গ্রামের অনেক নারী কৃষি, গবাদিপশু পালন, সবজি চাষ বা হস্তশিল্পে কাজ করলেও তাদের শ্রম সব সময় আয় হিসেবে দৃশ্যমান হয় না। প্রশিক্ষণ তাদের উৎপাদন খরচ বুঝতে, পণ্যের মান বাড়াতে এবং ভালো বাজার খুঁজতে সাহায্য করে। সবচেয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ সাধারণত চারটি বিষয় একসঙ্গে দেয় কারিগরি দক্ষতা, হিসাব রাখার অভ্যাস, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং প্রশিক্ষণের পর পরামর্শ বা সংযোগ।
- তথ্য যাচাইয়ের নোট: এই লেখায় উল্লেখ করা প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের সুযোগ সময়, এলাকা এবং কর্মসূচিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো কোর্সে আবেদন বা অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, স্থানীয় কার্যালয় বা যাচাইকৃত যোগাযোগের মাধ্যমে বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করুন।
গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ দেয় এমন উল্লেখযোগ্য এনজিও
১. ব্র্যাক
ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, যাদের ৫৪ শতাংশ নারী। এছাড়া ৪৪ হাজারের বেশি নারীকে নারীদের প্রচলিত পেশার বাইরের বিভিন্ন কাজেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি ও এলাকার চাহিদা অনুযায়ী সেলাই, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, বিভিন্ন কারিগরি কাজ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণ থাকতে পারে। গ্রামীণ কিশোরী ও তরুণীদের জন্য কিছু কর্মসূচিতেও জীবিকাভিত্তিক দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
২. টিএমএসএস
টিএমএসএস একটি বাংলাদেশি উন্নয়ন সংস্থা, যার বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। সংস্থাটির আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ সুবিধা ঢাকা, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, নাটোর, বেনাপোল ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সেলাই, পোশাক তৈরি, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি, ঘরোয়া বৈদ্যুতিক কাজ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় থাকতে পারে। কিছু কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জীবিকা বা উদ্যোক্তা উন্নয়নের অন্যান্য সহায়তার সঙ্গেও অংশগ্রহণকারীদের যুক্ত করা হতে পারে।
৩. আরডিআরএস বাংলাদেশ
উত্তরাঞ্চলে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আরডিআরএস বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির নীলফামারীর কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক স্থাপন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার পরিচালনা, সেলাই এবং রেফ্রিজারেশনের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সংস্থাটির কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক অন্যান্য কর্মসূচিতেও হাঁস-মুরগি পালন, উৎপাদন পদ্ধতি, প্রাণীর পরিচর্যা এবং বাজারসংযোগ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের বিষয় ও অংশগ্রহণের যোগ্যতা প্রকল্পভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
৪. ফ্রেন্ডশিপ
চর ও নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের জীবিকা উন্নয়নে ফ্রেন্ডশিপ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করে। নারীদের জন্য তাঁত, সেলাই, সূচিকর্ম ও কাপড় রং করার মতো দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি কিছু কর্মসূচিতে উৎপাদিত পণ্যের বাজারসংযোগেও সহায়তা করা হয়। কৃষক ক্লাবের মাধ্যমে ধান ও সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং অন্যান্য জীবিকাভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্রেন্ডশিপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৭২৫টি সক্রিয় কৃষক ক্লাবে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণের অনুপাত ৬০:৪০ রাখা হয়েছে।
৫. অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ও তরুণীদের জীবিকাভিত্তিক দক্ষতা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। কুড়িগ্রামের সাম্প্রতিক একটি উদ্যোগে ১৯১ জন কিশোরী ও নারী সেলাই, পরিবেশবান্ধব প্যাকেট তৈরি, গরু পালন এবং হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অন্য একটি কর্মসূচিতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণীদের জলবায়ু সহনশীল কৃষি, মাটি সংরক্ষণ, ফসল বৈচিত্র্য, বীজ সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৬. কেয়ার বাংলাদেশ ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কেয়ার বাংলাদেশ ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন জীবিকা ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনার দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছাসহ সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রকল্প তথ্য অনুযায়ী, নবপল্লবের বর্তমান পর্যায়ের সময়সীমা অক্টোবর ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬। তাই এই প্রকল্পে বর্তমানে প্রশিক্ষণ বা নতুন অংশগ্রহণের সুযোগ আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কোন ধরনের প্রশিক্ষণ বেছে নেওয়া সবচেয়ে লাভজনক হতে পারে?
জনপ্রিয় হলেই কোনো প্রশিক্ষণ আপনার জন্য উপযুক্ত হবে এমন নয়। প্রশিক্ষণ বেছে নেওয়ার আগে নিজের আগ্রহ, বর্তমান দক্ষতা এবং এলাকার চাহিদা বিবেচনা করুন। আশপাশে ডিম, দুধ, সবজি, সেলাইয়ের কাজ, খাবার প্রস্তুত, নার্সারি বা মোবাইল সার্ভিসিংয়ের চাহিদা থাকলে সংশ্লিষ্ট দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং কাজ শুরু করতে কী কী প্রয়োজন হবে তা আগেই জেনে নেওয়া ভালো।
শুধু সনদ নয়, বাজারসংযোগ আছে কি না দেখুন
প্রশিক্ষণ বেছে নেওয়ার সময় শুধু সনদ দেওয়া হবে কি না তা না দেখে শেখানো দক্ষতা বাস্তবে ব্যবহার করার সুযোগ আছে কি না সেটিও বিবেচনা করুন। কিছু কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ, বাজারসংযোগ, সরকারি সেবার তথ্য বা জীবিকা শুরু করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণের পর কোনো ধরনের পরামর্শ বা সহায়তা দেওয়া হয় কি না জেনে নিন।
প্রশিক্ষণের জন্য কীভাবে যোগাযোগ করবেন?
প্রথমে নিজের উপজেলা বা জেলায় সংশ্লিষ্ট এনজিওর শাখা বা চলমান প্রকল্প আছে কি না খোঁজ নিন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, যুব উন্নয়ন কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর বা স্থানীয় এনজিওকর্মীর কাছ থেকেও চলমান কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপর প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা যাচাইকৃত যোগাযোগ নম্বর থেকে প্রশিক্ষণের নাম, বয়সসীমা, এলাকা, সময়কাল, কোনো ফি আছে কি না এবং কী কাগজপত্র প্রয়োজন তা নিশ্চিত করুন। প্রকল্পভেদে পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ছবি বা শিক্ষাগত তথ্য চাইতে পারে।
প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়ার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
টাকা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান ও কোর্সটি সত্যিই চলমান কি না যাচাই করুন। প্রশিক্ষণের মেয়াদ, প্রশিক্ষকের যোগ্যতা, ব্যবহারিক অনুশীলনের পরিমাণ, যাতায়াত বা আবাসনের ব্যবস্থা, উপকরণ দেওয়া হবে কি না এবং প্রশিক্ষণ শেষে সহায়তা থাকবে কি না জেনে নিন। বিশেষ করে “নিশ্চিত চাকরি” বা “নিশ্চিত আয়” ধরনের অযাচাইকৃত প্রতিশ্রুতি শুনলে সতর্ক হওয়া ভালো। নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষণ বাস্তব দক্ষতা ও সুযোগের কথা বলে, ফলাফলকে অতিরঞ্জিত করে না।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. গ্রামীণ নারীদের জন্য কি বিনামূল্যে এনজিও প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, কিছু প্রকল্পে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে পারে। প্রকল্পভেদে প্রশিক্ষণ সামগ্রী, যাতায়াত সহায়তা বা প্রয়োজনীয় কিছু উপকরণও দেওয়া হতে পারে। তবে সব প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে নয় এবং একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমান শর্ত ও কোনো ফি আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন।
২. কম শিক্ষিত নারী কি এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেন?
অনেক জীবিকাভিত্তিক কোর্সে উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। হাঁস-মুরগি পালন, সবজি চাষ, সেলাই, হস্তশিল্প বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কোর্সে ব্যবহারিক শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে কম্পিউটার বা কিছু কারিগরি কোর্সে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে পারে।
৩. কোন এনজিও সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়?
ব্র্যাক, টিএমএসএস, আরডিআরএস বাংলাদেশ, ফ্রেন্ডশিপ এবং অ্যাকশনএইডের বিভিন্ন প্রকল্পে সেলাই বা পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণের উদাহরণ পাওয়া যায়। তবে এটি সব এলাকায় স্থায়ীভাবে চালু থাকে না। স্থানীয় শাখায় যোগাযোগ করে বর্তমান ব্যাচে সেলাই কোর্স আছে কি না জানতে হবে।
৪. কৃষি ও হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যেতে পারে?
ব্র্যাক, আরডিআরএস বাংলাদেশ, ফ্রেন্ডশিপ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের বিভিন্ন প্রকল্পে কৃষি, সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। তবে প্রকল্প ও এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয় পরিবর্তিত হয়। বর্তমান সুযোগ জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় কার্যালয় বা নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত।
৫. প্রশিক্ষণের পর কি এনজিও ঋণ দেয়?
কিছু এনজিওর নিজস্ব ক্ষুদ্রঋণ বা আর্থিক সেবা কর্মসূচি রয়েছে, আবার কিছু প্রকল্প অংশগ্রহণকারীদের সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। তবে কোনো প্রশিক্ষণে অংশ নিলেই ঋণ পাওয়া নিশ্চিত নয়। ঋণ নেওয়ার আগে সুদ বা সেবা মূল্য, মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ, কিস্তির সময়সূচি, শর্তাবলি এবং নিজের পরিশোধের সক্ষমতা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া উচিত।
৬. গৃহিণীরা কি প্রশিক্ষণে আবেদন করতে পারেন?
হ্যাঁ, অনেক গ্রামীণ জীবিকা কর্মসূচির প্রধান অংশগ্রহণকারীই গৃহিণী বা পরিবারের আয়বিহীন নারী। বিশেষ করে বাড়িভিত্তিক সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, সেলাই, খাদ্য প্রস্তুত ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ঘরের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয় করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
৭. প্রশিক্ষণের জন্য বয়সসীমা কত?
একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য নয়। কোনো কর্মসূচি কিশোরী ও তরুণীদের লক্ষ্য করে, আবার কোনোটি প্রাপ্তবয়স্ক নারী কৃষক বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য। উদাহরণ হিসেবে কিছু যুব ও কৃষি প্রকল্পে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আবেদন করার সময় প্রকল্পের নিজস্ব যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।
৮. প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করতে কী ধরনের প্রাথমিক খরচ হতে পারে?
প্রাথমিক খরচ প্রশিক্ষণ ও কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ বা ছোট পরিসরে হাঁস-মুরগি পালনে বীজ, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ থাকতে পারে। অন্যদিকে সেলাইয়ের কাজে মেশিন ও সরঞ্জাম কিংবা মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি লাগতে পারে। তাই কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সম্ভাব্য খরচের একটি ছোট হিসাব তৈরি করা ভালো।
৯. গ্রামের নারী কীভাবে চলমান প্রশিক্ষণের খবর পাবেন?
স্থানীয় এনজিও শাখা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ অফিস, যুব উন্নয়ন কার্যালয় এবং স্থানীয় নারী সংগঠনের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়। পাশাপাশি এনজিওর সরকারি ওয়েবসাইট ও যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগ পাতায় নতুন ব্যাচ বা প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।
১০. সবচেয়ে ভালো এনজিও কোনটি?
সবার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে ভালো বলা ঠিক হবে না। আপনার জেলা, বয়স, আগ্রহ, সময়, বাজার এবং আয় শুরু করার পরিকল্পনার সঙ্গে যে কর্মসূচি সবচেয়ে ভালো মেলে সেটিই উপযুক্ত। প্রশিক্ষণ বেছে নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের নামের চেয়ে ব্যবহারিক শেখা, বাজারসংযোগ, প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহায়তা এবং স্থানীয়ভাবে দক্ষতাটি কাজে লাগানোর সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দিন।
উপসংহার
বাংলাদেশে ব্র্যাক, টিএমএসএস, আরডিআরএস বাংলাদেশ, ফ্রেন্ডশিপ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ ও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে শুধু কাছাকাছি কোনো প্রশিক্ষণে ভর্তি না হয়ে নিজের আগ্রহ, এলাকার চাহিদা, প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সহায়তার বিষয়গুলো যাচাই করা ভালো। ব্যবহারিক শেখা, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং পরবর্তী দিকনির্দেশনা আছে এমন প্রশিক্ষণ শেখা দক্ষতাকে বাস্তব কাজে ব্যবহার করতে সহায়ক হতে পারে।

