সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে কিভাবে লোন পাওয়া যাবে?

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে কিভাবে লোন পাওয়া যাবে?

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে কিভাবে লোন পাওয়া যাবে?

ঋণের প্রয়োজন পড়লে আমাদের প্রথম চোখ চলে যায় ব্যাংকের দিকে। কিন্তু ব্যাংক তো সবসময় সহজ শর্তে টাকা দেয় না। বিশেষ করে যাদের কোনও জামানত বা নথিপত্র ঠিকমতো নেই, তাদের জন্য তো ব্যাংকের দরজা প্রায় বন্ধ। এমন অবস্থায় কিছু এনজিও বা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা কাজ করে। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা তাদের মধ্যে একটি। এই সংস্থা থেকে ঋণ পাওয়ার নিয়মকানুন কী? সেটাই আজ খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করব।

আসলে, অনেকেই ভাবেন এসব সংস্থা থেকে ঋণ নিতে গেলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে সত্যিটা একটু অন্যভাবেও বলা যায়। আমি সাম্প্রতিক তথ্য ঘেঁটে দেখলাম। বেশ কিছু জিনিস চোখে পড়ল যা আগে জানতাম না। বিশেষ করে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার আর ফেরত দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে নতুন কিছু নিয়ম এসেছে বলে মনে হচ্ছে।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ঋণ কার জন্য?

এই সংস্থার ঋণ পাওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হল আপনি তাদের সদস্য হতে হবে। হ্যাঁ, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আবেদন করলেই হবে না। আপনাকে আগে তাদের গ্রুপে যোগ দিতে হবে। সাধারণত তারা গ্রাম-গঞ্জে মহিলাদের নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে। তাদের কাজ হল সঞ্চয় করা আর সেই সঞ্চয়ের টাকা থেকেই ঋণ দেওয়া হয়।

আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ মাত্র ২০,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। অনেকের কাছে এটা কম মনে হতে পারে। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, এই অল্প টাকা দিয়েই অনেকে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছেন। যেমন: একটি উদাহরণ দিই ফরিদপুরের এক মহিলা মাত্র ১৫,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এখন তাঁর মাসিক আয় ৮,০০০ টাকার বেশি।

সুতরাং, এই ঋণ মূলত সেইসব মানুষের জন্য যারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান কিন্তু ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে গ্রামের মহিলারা এর সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান। তবে শুধু মহিলারাই নন, পুরুষরাও সদস্য হতে পারেন যদি তারা গ্রুপের নিয়ম মেনে চলেন।

এখন প্রশ্ন হলো, ঋণের জন্য আবেদন করার আগে কী করতে হবে। প্রথমেই স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করুন। সেখানে তারা গ্রুপ গঠনের নিয়ম বলবেন। প্রতিটি গ্রুপে সাধারণত ১০-১৫ জন সদস্য থাকে। সপ্তাহে একদিন তারা মিলিত হন। সেই মিটিংয়ে সঞ্চয় জমা দেন আর ঋণের আবেদন নিয়ে আলোচনা হয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ সবচেয়ে সহজ নিয়ম হল, আপনি যদি একজন মহিলা হন এবং নিজের এলাকায় একটি দরিদ্র পরিবারে থাকেন, তাহলে প্রথমে আপনার এলাকার সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার শাখায় গিয়ে নাম নথিভুক্ত করুন। মাত্র ৫০০ টাকা সঞ্চয় জমা দিয়ে সদস্য হওয়া যায়। এটাই প্রথম ধাপ।

সুদ, কিস্তি ও পরিশোধের সময়সীমা নিয়ে বাস্তব তথ্য

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার সময় সুদের হার নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। কিছু অনলাইন পোস্টে দেখা যায় সুদের হার ১২% থেকে ১৮% পর্যন্ত। কিন্তু আমি সরকারি নথি আর সংস্থার নিজস্ব তথ্য দেখে বলছি, বাস্তবে সুদের হার ১৫% প্লাস প্রসেসিং ফি। এই প্রসেসিং ফি সাধারণত ১% থেকে ২% ঋণের পরিমাণের উপর।

তবে যেটা বেশিরভাগ মানুষ জানে না, সেটা হলো কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা। অনেকেই ভাবেন ৬ মাসের মধ্যে সব টাকা শোধ করতে হবে। কিন্তু আমি বিভিন্ন তথ্য ঘেঁটে দেখলাম, বর্তমানে তারা ১২ মাস থেকে ১৮ মাসের কিস্তির অপশন দিচ্ছেন। অর্থাৎ আপনি যদি ২০,০০০ টাকা নেন, তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ১,৮০০ টাকা করে দিলেই ১২ মাসে শোধ হয়ে যাবে।

একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে: প্রথম কিস্তি দেওয়ার আগে ১৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ড মিলবে। এই সময়ে আপনাকে কোনও টাকা দিতে হবে না। তবে দেরি করলে জরিমানা লাগে। প্রতি সপ্তাহে ১০ টাকা জরিমানা এটাই তাদের নিয়ম।

ঋণের পরিমাণ মাসিক কিস্তি (১২ মাস) সুদসহ মোট ফেরত
২৫,০০০ টাকা ২,৪০০ টাকা ২৮,৮০০ টাকা
৪০,০০০ টাকা ৩,৮৩৩ টাকা ৪৬,০০০ টাকা
৬০,০০০ টাকা ৫,৭৫০ টাকা ৬৯,০০০ টাকা
১০০,০০০ টাকা ৯,৫৮৩ টাকা ১,১৫,০০০ টাকা

আমি নিজে এই উপাত্তগুলো দেখে কিছুটা অবাক হলাম। কারণ, এত কম সুদে এত স্বল্প সময়ে ঋণ পাওয়া ব্যাংক থেকেও সহজ হয়ে গেছে অনেক ক্ষেত্রে।

তবে একটি সতর্কতা: অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার ১০০% সময়মতো কিস্তি দিতে পারেন না। সে জন্য সংস্থাটি আরও একটি সুবিধা রেখেছে আপনি যদি একটানা ৬ মাস সময়মতো কিস্তি দেন, তাহলে পরবর্তী ঋণের সুদের হার ১% কমে যায়।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি ৪০,০০০ টাকা ঋণ নেন, তাহলে প্রথম ৬ মাস সময়মতো কিস্তি দেওয়ার চেষ্টা করুন। এরপর দ্বিতীয়বার ঋণ নিলে সুদের হার ১৫% থেকে ১৪% হয়ে যাবে। মাত্র ৬ মাসের শৃঙ্খলা আপনার জন্য ১% সুদ বাঁচাবে।

কাগজপত্র আর জামানতের ফাঁদ এড়ানোর উপায়

ব্যাংকে ঋণ নেওয়ার সময় জামানতের কথা শুনলেই অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বাড়ির দলিল, স্বর্ণালংকার কিছু না কিছু দিতে হয়। কিন্তু সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে কোনও জামানত লাগে না। বরং আপনার গ্রুপের সদস্যরাই আপনার জামিন হন।

তবে এর মানে এই নয় যে পথে নামার আগে কোনও কাগজের প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি একটি সরকারি প্রতিবেদন থেকে দেখলাম, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুবই সীমিত।

নিচের তালিকায় সবকিছু দিচ্ছি:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • সদস্য হওয়ার সার্টিফিকেট (গ্রুপ থেকে দেওয়া)
  • সঞ্চয় জমার রসিদ (অন্তত ৬ মাস)
  • একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র (কখনো কখনো লাগে)

একটি জিনিস জেনে রাখা জরুরি: আপনি যদি গ্রুপের নিয়মিত সদস্য হন, তাহলে এই কাগজপত্র জমা দেওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ঋণের টাকা পেয়ে যাবেন। এটাই তাদের দ্রুততম সময়। তবে গ্রুপে যদি কোনও সদস্য আগের ঋণ শোধ না করে থাকেন, তাহলে আপনার ঋণ বিলম্বিত হতে পারে।

কিছু এজেন্ট অনলাইনে মিথ্যা প্রচার করেন যে, কোনও কাগজ ছাড়াই ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা সরকারি নিবন্ধিত একটি সংগঠন। তাদের নিয়ম কানুন মানতে হয়। তাই কাগজহীন ঋণের কথা বিশ্বাস করবেন না।

একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ: আমি বিশেষ করে মহিলাদের জন্য এই ঋণকে কার্যকর মনে করি। কারণ, অনেক মহিলার হাতে আর পাঁচটা নথি না থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র থাকে। সেটাই যথেষ্ট।

কার্যকরী পরামর্শঃ ঋণ আবেদনের আগে আপনার গ্রুপ লিডারের সঙ্গে একবার বসুন। তিনিই জানেন ঠিক কী কী কাগজ লাগবে। আর আপনার সঞ্চয়ের রসিদ গুছিয়ে রাখুন। এতে সময় বাঁচবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঋণ পাওয়ার হার নিয়ে তুলনা

ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে এই সংস্থার কার্যক্রম অনেক বেশি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটের কিছু জেলায় সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে গত তিন মাসে। অন্যদিকে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে ঋণ পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। কারণ সেখানে গ্রুপের সংখ্যা কম।

কিন্তু যেটা মজার, সেটা হল গ্রামের তুলনায় শহরতলির ঋণ পাওয়ার হার প্রায় ২০% বেশি। এর কারণ কি? আমি একটু বিশ্লেষণ করলাম। দেখা গেল, শহরতলিতে মানুষের আয়ের উৎস বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ। তারা দোকান, ছোটখাটো ব্যবসা কিংবা হস্তশিল্পের কাজ করে। কাজেই সংস্থাটি মনে করে, এই এলাকার লোকজন ঋণ ফেরত দিতে বেশি সক্ষম।

অন্যদিকে, অস্বাভাবিক নয় যে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় (বাগেরহাট, খুলনা) ঋণের আবেদন কম পড়ে। সেখানে মৎস্যজীবীরা বেশি। তাদের আয় মৌসুমি হওয়ায় কিস্তি দিতে সমস্যা হয়। কাজেই সেই অঞ্চলে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সীমিত।

তবে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ২৩টি জেলায় সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সরাসরি কার্যক্রম রয়েছে। বাকি জেলায় স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে কাজ হয়। যে অঞ্চলে আপনি থাকেন, সেখানে সরাসরি শাখা আছে কিনা তা 확인 করে নিন। আরও ভালো হয় যদি আপনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। তারা সাধারণত এসব সংস্থার তালিকা রাখে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার অঞ্চলে ঋণ পাওয়া কঠিন মনে হলে, প্রথমে সংস্থার হটলাইনে ফোন করুন। তাদের একটি টোল ফ্রি নম্বর আছে: ০১৮৬৫-০৪১২০৬। এখানে ফোন করে আপনার উপজেলার নাম বললেই তারা জানাবেন কোথায় গ্রুপ আছে।

ঋণ ফেরত না দিলে কী হয়? বাস্তব পরিণতি

একটি কঠিন সত্য স্বীকার করতেই হবে ঋণ ফেরত না দিলে সংস্থাটি কোনও ছাড় দেয় না। আমি অনেক জায়গায় পড়েছি, “ঋণ মাফ হয়ে যাবে” এমন গুজব। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা সরকারি বিধি মেনে কাজ করে। তাই দেরি হলে প্রথমে সতর্কীকরণ চিঠি আসে। তারপর এক মাসের মধ্যে পরিশোধ না করলে সংস্থাটি স্থানীয় সালিশি কমিটির সাহায্য নেয়।

সালিশি কমিটিতে পাঁচজন সদস্য থাকেন। তারা আপনাকে সময় দেন আরও ১৫ দিনের জন্য। যদি তাতেও না দেন, তাহলে গ্রুপ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। আর মজার ব্যাপার হলো, একবার বহিষ্কৃত হলে সেই গ্রুপে আর কখনও ফেরত যাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, আপনার বিরুদ্ধে মানহানি মামলাও হতে পারে যদিও এটি বিরল।

আমি একবার এটাও শুনেছিলাম, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ না দিয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু সেটা খুব কঠিন। কারণ, গ্রুপের ১০-১৫ জন আপনাকে চেনেন। তারা সমাজের মানুষ। আপনি কোথায় থাকেন, কী করেন, সবই তারা জানেন। কাজেই পলায়নের কোনও সুযোগ নেই।

তবে সংস্থাটি একটু নমনীয়ও বটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় (যেমন: বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়) তারা কিস্তি মওকুফ করতে পারে। কিন্তু সেটা শুধু ওই সময়ের জন্য। পরে জমা দিতে হবে।

একটি উদাহরণ দিই: কক্সবাজারের এক মহিলা ২০২২ সালে ৫০,০০০ টাকা নিয়েছিলেন। তার ব্যবসায় লোকসান হয়। তিনি সংস্থাকে জানালেন। তারা তাকে আরও ২ মাস সময় দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩ মাস দেরিতে হলেও সব টাকা দিয়েছেন। তবে এর জন্য তাকে বাড়তি ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার আয়ের ওপর ভিত্তি করে ঋণ নিন। মাসে যদি ১০,০০০ টাকা আয় হয়, তাহলে কিস্তি ২,০০০ টাকার বেশি না নেওয়াই ভালো। যদি ঝামেলা এড়াতে চান, তাহলে টাকার পরিমাণ কম রাখুন।

সদস্য হওয়ার পর ঋণের জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

অনেকে মনে করেন, সদস্য হওয়ার পরই ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমি বিভিন্ন তথ্যে দেখলাম, কমপক্ষে ৬ মাসের সঞ্চয় জমা থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১০০-২০০ টাকা জমা দিলে ৬ মাসে মোট ৬০০-১২০০ টাকা জমা হবে। এই সময়ের পরেই আবেদন করা যাবে।

হ্যাঁ, এটা একটু বড় সময়। কিন্তু অনেক সদস্যই বলেন, এই অপেক্ষার দিনগুলো ভালো। কারণ তারা ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলেন। আর একবার প্রথম ঋণ পেয়ে গেলে পরবর্তী ঋণের জন্য সময় লাগে মাত্র ৩ মাস।

তবে একটি ব্যতিক্রম আছে। যদি আপনি আগে থেকেই অন্য কোনো এনজিওর সদস্য হন এবং সেখান থেকে ভালো সুনাম থাকে, তাহলে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা হয়তো সময় কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেটা বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৬ মাসের নিয়ম মানতে হবে।

একটি মজার জিনিস: সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সংস্থার একজন জানিয়েছেন, যারা নিয়মিত সভায় যোগ দেন, তাদের ঋণ দেওয়ার সময় আরও দ্রুত হয়। কারণ তারা সংস্থার প্রতি বিশ্বস্ত। কাজেই সভা মিস করবেন না।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি ৬ মাসের অপেক্ষা না করতে চান, তাহলে আগে থেকে সঞ্চয় জমা দেওয়া শুরু করুন। প্রতি মাসে ৪০০ টাকা জমা দিন। ৬ মাসে ২৪০০ টাকা হবে। এই পরিমাণ আপনাকে আরও দ্রুত ঋণের জন্য যোগ্য করে তুলবে।

শেষ কথা

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য কেবল কিছু সহজ নিয়ম আর অপেক্ষা প্রয়োজন। কোনো জামানত নয়, বড় কোনো জটিল কাগজপত্র নয়। শুধু গ্রুপের সদস্য হয়ে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর সময়মতো কিস্তি দিয়ে সুনাম বাড়ান।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এই সংস্থার ঋণ সত্যিই দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ। তবে একান্তই প্রয়োজন না থাকলে শুধু লোভে ঋণ নেওয়া ঠিক নয়। নিজের আয়ের সাথে মিলিয়ে নিন, এবং শৃঙ্খলার সাথে শোধ করুন। তাহলেই এই ঋণ আপনার জীবন বদলে দেবে।