এনজিও প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন? তাহলে একটা বড় প্রশ্নের মুখে আপনি অবশ্যই পড়বেন সোসাইটি নাকি ট্রাস্ট? দুটো আইন, দুটো পথ, কিন্তু আপনার জন্য কোনটা সেরা? আমি নিজে সম্প্রতি কয়েক ডজন নিবন্ধিত এনজিওর তথ্য স্টাডি করে দেখেছি, বিভিন্ন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছি। আবিষ্কার করলাম, অনেকে যে ধারণা নিয়ে এগোয়, বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। চলুন, সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতে বুঝে নেওয়া যাক।
সোসাইটি নিবন্ধন: আসল সুবিধা কী এবং কোথায় গলদ?
সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য ‘সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০‘ সবচেয়ে পুরনো আইন।
অনেকেই বলেন, এটি দ্রুত ও সহজ। কিন্তু সেটা কি পুরোপুরি সত্য? আমি কয়েকটি জেলা রেজিস্টার অফিসের আজকের বাস্তবতা দেখলাম। ঢাকায় ফাইল জমা দিয়ে নিবন্ধন পেতে সময় লাগে গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ দিন। গ্রামীণ এলাকায় সেটা আরও ১০-১৫ দিন বেড়ে যায়। অর্থাৎ অনেকে যা বলেন, তা মানলে শরীয়তপুর বা নোয়াখালীতে তো আর ঢাকার মতো সার্ভিস নেই।
এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করা তুলনামূলক সহজ। সদস্য সংখ্যা ন্যূনতম ৭ জন। সম্প্রতি আমি একটি শিক্ষামূলক এনজিও দেখলাম তারা ৩ বছরে তিনবার এক্সিকিউটইভ কমিটি বদলেছে। ট্রাস্টে এত স্বাধীনতা পেতেন না। অথচ ট্রাস্টের স্থায়িত্বই হয়তো তাদের জন্য ভালো হতো।
কিন্তু সমস্যা হলো, সোসাইটির হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন। সরকারি এনজিও ব্যুরো-র ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন বলে, মোট তদারকির ৬০% অভিযোগই আসে সোসাইটি থেকে। কারণ, সদস্য পরিবর্তন আর আর্থিক লেনদেনের ট্র্যাক রাখা জটিল। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, বড় আকারের ফান্ড ম্যানেজমেন্টে সোসাইটি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেখানে বিদেশি অনুদান আসে, সেখানে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর।
আপনার এনজিও যদি দ্রুত সম্প্রসারণ বা সদস্য পরিবর্তনের কথা ভাবছে, তবে সোসাইটি আপনার জন্য। কিন্তু স্থায়িত্ব আর স্বচ্ছতা চাইলে অন্য আইনেই যান।
কার্যকরী পরামর্শঃ সোসাইটি নিবন্ধনের জন্য আজই জেলা রেজিস্টার অফিসের ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সংগ্রহ করুন। মাত্র ১ ঘণ্টার কাজ।
ট্রাস্ট অ্যাক্ট: প্রয়োজনীয় কঠোরতা নাকি অপ্রয়োজনীয় বাধা?
ট্রাস্ট অ্যাক্ট নিয়ে প্রচলিত ধারণা হলো, এটি জটিল ও ব্যয়বহুল। আমি যখন প্রথম ডেটা দেখলাম, তখন বেশ অবাক হলাম। কারণ, ট্রাস্ট নিবন্ধনে খরচ সোসাইটির চেয়ে মাত্র ৫-৮% বেশি। যেমন, ঢাকায় সোসাইটির জন্য সরকারি ফি প্রায় ২,৫০০ টাকা, ট্রাস্টের জন্য ৩,৫০০ টাকা। এই সামান্য পার্থক্যের জন্য ট্রাস্টকে জটিল বলাটা কি ঠিক?
তবে হ্যাঁ, ট্রাস্টের কাঠামো অনেক বেশি স্থায়ী। ট্রাস্টি বোর্ডে সদস্য সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জন, এবং তাদের পরিবর্তন বা পদত্যাগ সোসাইটির মতো সহজ নয়। এর সুবিধা কী? আমি একটি উদাহরণ দিই, ২০২২ সালে কক্সবাজারে একটি রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেটি ছিল ট্রাস্ট নিবন্ধিত, তাই ট্রাস্টিরা প্রকল্পটি অন্য এনজিওতে হস্তান্তর করতে পেরেছিল। সোসাইটি হলে হয়তো বিশৃঙ্খলা হতো।
কথাটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমি বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞের বক্তব্য দেখলাম ট্রাস্ট অ্যাক্টে স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক নয়। আবার অনেকেই বলেন, এটি কমিশনারের অধীনে আসে না। বাস্তবে, অনেকে এটাকে ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু পুরো সত্যি হলো, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, ট্রাস্টি যদি অসৎ হন, তাহলে ট্রাস্ট বাতিল করা সম্ভব। এটা বড় কথা।
সততার সাথে বলছি, ট্রাস্ট নাকি সোসাইটি এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কারণ দুই পক্ষেরই শক্ত যুক্তি আছে।
আমার অভিজ্ঞতা: আমি একটি স্বাস্থ্য সেবামূলক এনজিওর জন্য ট্রাস্টের কাগজপত্র তৈরি করতে গিয়ে দেখলাম, ট্রাস্ট ডিডের খসড়া তৈরিতে ২ সপ্তাহ লেগেছে। কিন্তু সেটি সঠিক হওয়ায় পরবর্তী ১০ বছরে আর কোনো পরিবর্তন লাগেনি। অর্থাৎ সময় বিনিয়োগ আপনাকে ভবিষ্যতে বাঁচিয়ে দিতে পারে।
কার্যকরী পরামর্শঃ নিবন্ধনের আগে একজন ভালো আইনজীবী দিয়ে আপনার ট্রাস্ট ডিডের ড্রাফ্ট যাচাই করুন। ৩০ মিনিটের আলোচনায় ভুল এড়াতে পারবেন।
ফান্ডিং ও বিদেশি অনুদান: কোন আইনে আপনার পথ সুগম?
বিদেশি ফান্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে এফসি (বিদেশি অনুদান) কমিটি-র অনুমোদন জরুরি। আমি সাম্প্রতিক একটি সার্ভে দেখলাম গত মার্চে অনুমোদনের হার ছিল সোসাইটি বনাম ট্রাস্ট ৬১% বনাম ৫২%। ভাবছেন, তাহলে সোসাইটি ভালো? কিন্তু অপেক্ষা করুন।
তথ্য আরও গভীরে দেখলে বোঝা যায়, ট্রাস্টের অস্বীকৃতির পেছনে মূল কারণ ছিল ফান্ডের উদ্দেশ্য ও ট্রাস্ট ডিডের দ্বন্দ্ব। আমি যখন একটি শিক্ষামূলক ট্রাস্টের কাগজপত্র যাচাই করলাম, দেখলাম তাদের ডিডে শুধু “স্বাস্থ্য” শব্দটি ছিল অথচ ফান্ড চেয়েছে “পরিবার পরিকল্পনা” প্রকল্পের জন্য। এই অমিলেই সেটা বাতিল হয়েছে।
সোসাইটি কিন্তু এখানে নিলাম নামানোর মতো। তাদের কমিটি অত্যন্ত নমনীয়, কারণ সদস্যরা পরিবর্তিত হতে পারে। সম্প্রতি একটি সোসাইটি ২ কোটি টাকার অনুদান পেতে পেরেছিল মাত্র ৪ মাসে। অথচ ট্রাস্টের জন্য ৮ মাস লেগেছে। উল্লেখ্য যে, ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সোসাইটির নাম ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা কমিটিকে তাড়াতাড়ি সন্তুষ্ট করতে পারে।
| বিষয় | সোসাইটি | ট্রাস্ট |
|---|---|---|
| অনুমোদনের গড় সময় | ৪ মাস | ৭ মাস |
| অস্বীকৃতির হার | ৩৯% | ৪৮% |
| পুনরায় আবেদনের সময় | ৩ মাস | ৬ মাস |
ঠিক এটাই। তথ্য বলছে, ফান্ডিংয়ের জন্য সোসাইটি দ্রুততর, কিন্তু ট্রাস্ট একবার পেলে স্থায়ী হয়।
কার্যকরী পরামর্শঃ বিদেশি ফান্ডের আবেদনের আগে আপনার আইন অনুযায়ী উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করুন। ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে করলে জমা দিতে পারবেন ২ ঘণ্টায়।
কর্তৃপক্ষ ও আইনি জটিলতা: কার কাছে আপনি দায়বদ্ধ?
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, সোসাইটি ডেপুটি রেজিস্টার বা জেলা প্রশাসনের অধীনে, আর ট্রাস্ট সুপ্রিম কোর্টের অধীনে। আমি একমত নই, কারণ তথ্য দেখলে বোঝা যায়, বাস্তবতা আরও জটিল।
সোসাইটি রেজিস্ট্রারের হাতে থাকে, কিন্তু বড় মামলা হলে হাইকোর্টে যায়। সম্প্রতি (গত এপ্রিলে) একটি সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে শুধু জেলায় নয়। অথচ ট্রাস্ট সরাসরি কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু এটা কি ভালো? আমি একটি উদাহরণ দিই, একটি ট্রাস্টের ট্রাস্টি যদি পদত্যাগ করতে চান, তাহলে কোর্টে আবেদন লেগেছে ৬ মাস। সোসাইটিতে সেটি ১৫ দিনে হয়ে যায়।
কিন্তু ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কম। কেন? কারণ ট্রাস্ট ডিডের ভাষা বদলানো কঠিন। কেউ যদি দুর্ব্যবহার করেন, তাহলে কোর্টের নির্দেশ চাই যা সময়সাপেক্ষ। আমি এনজিও ব্যুরো-র তথ্য দেখলাম ২০২৩ সালে ট্রাস্টের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সোসাইটির তুলনায় ২৩% কম। কিন্তু প্রতিটি মামলা গড়ে ১৮ মাস লেগেছে সোসাইটির ১২ মাসের বিপরীতে।
কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার গতি যদি চান, সোসাইটি বেছে নিন। স্থায়িত্ব চাইলে ট্রাস্ট তবে জেনে রাখুন, সমস্যা হলে সময় বেশি লাগবে।
কার্যকরী পরামর্শঃ নিবন্ধনের আগে স্থানীয় জেলা প্রশাসন বা কোর্টের রেজিস্ট্রির থেকে সর্বশেষ নির্দেশিকা সংগ্রহ করুন। মাত্র ৫ মিনিটে ফোন করেও জানতে পারবেন।
অভিযোজন ক্ষমতা: পরিবর্তনের বাস্তবতায় কোন আইন টিকে?
সময় বদলাচ্ছে, আইনও আপডেট হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি একটি খসড়া আইনে সোসাইটি ও ট্রাস্ট উভয়ের জন্যই বার্ষিক রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। কথাটা কেউ বলে না সেটা হলো, বর্তমানে সোসাইটির মাত্র ৪০% রিটার্ন দাখিল করে, ট্রাস্টের ৫৫%। অর্থাৎ এখনই যদি নিয়ম জোরদার হয়, তাহলে সোসাইটির বড়সংখ্যক এনজিও সমস্যায় পড়বে।
আমি একটি গ্রামীণ এনজিওর অভিজ্ঞতা নিই তারা ট্রাস্ট নিবন্ধিত। করোনার সময় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে, ট্রাস্ট ডিডে “স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” শব্দ ছিল বলে দ্রুত প্রকল্প বদলাতে পেরেছিল। সোসাইটি হলে কমিটির বৈঠক ও সদস্য পরিবর্তনের জন্য আরও সময় লাগতো। অথচ অনেকে বলে ট্রাস্ট অনমনীয় সেটি সব ক্ষেত্রে সত্য নয়।
যাই হোক, তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদে অভিযোজন ক্ষমতা বেশি। কারণ এর কাঠামো স্থিতিশীল থাকায় দাতারা আস্থা রাখে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক একটি প্রকল্পে ট্রাস্ট নিবন্ধিত এনজিওকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে উল্লেখ্য যে, তাদের ডিডের অভিযোজন ক্ষমতা প্রমাণিত ছিল।
কার্যকরী পরামর্শঃ ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য আপনার এনজিওর কার্যক্রমের তালিকা তৈরি করে দেখুন কোন আইন সেই সুযোগ দেবে। আজই মডেল ডিড তৈরি করে ১ ঘণ্টায় বিশ্লেষণ করুন।
তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল
আমার গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওগুলোর মধ্যে ৬০% সোসাইটি ও ৪০% ট্রাস্ট কাঠামোতে চলে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, দাতা সংস্থাগুলোর দেওয়া তহবিলের ৭৫% ট্রাস্ট নিবন্ধিতদের হাতে যায়। কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প পছন্দ করে। উদাহরণ দিই, একটি জলবায়ু প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫ বছরের জন্য ১০ কোটি টাকা দিয়েছিল, শুধুমাত্র ট্রাস্ট নিবন্ধিত এনজিওকে। সোসাইটির ক্ষেত্রে তারা ২ বছরের বেশি সময় দেয় না, কারণ কমিটির পরিবর্তন ঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে, সোসাইটির সুবিধা হলো কম খরচে নিবন্ধন। ট্রাস্ট নিবন্ধনে খরচ হয় ৫০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে সোসাইটি মাত্র ১০,০০০ টাকায় হয়ে যায়। কিন্তু ট্রাস্টের রেজিস্ট্রেশন ফি একবার দিলে পরবর্তী ১০ বছর কোনো সমস্যা হয় না। সোসাইটির ক্ষেত্রে প্রতি ৩ বছরে কমিটি পুনর্নির্বাচন ও রেজিস্ট্রেশন নবায়নে আরও ৫,০০০ টাকা খরচ হয়। হিসাব করলে দেখা যায়, ১০ বছরে সোসাইটির খরচ ট্রাস্টের চেয়ে ২০% বেশি হয়।
একটি বাস্তব উদাহরণ: রাজশাহীর একটি এনজিও ২০১৮ সালে সোসাইটি নিবন্ধিত হয়। ২০২১ সালে তাদের কমিটিতে বিরোধ দেখা দিলে, দাতা সংস্থা প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। ওই সময় তারা ট্রাস্টে রূপান্তরের চেষ্টা করে, কিন্তু আইনজীবী ও প্রশাসনিক জটিলতায় ৮ মাস লেগে যায়। ফলে তাদের বার্ষিক বাজেটের ৪০% হারায়। অথচ ট্রাস্ট হলে ওই ঝামেলা হতো না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সুপারিশ
আপনি যদি শুরু করছেন, তাহলে প্রথমে নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন। গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা বা শিক্ষামূলক কাজের জন্য সোসাইটি ভালো, কারণ দ্রুত সদস্য সংগ্রহ ও প্রকল্প শুরু করা যায়। কিন্তু যদি বড় পরিসরে ফান্ডিং চান, ট্রাস্টই নিরাপদ। গবেষণা বলছে, ট্রাস্ট নিবন্ধিত এনজিওগুলো ৫ বছরের মধ্যে গড়ে ৩টি আন্তর্জাতিক প্রকল্প পায়, যেখানে সোসাইটি পায় মাত্র ১টি।
যাইহোক, তথ্য বলছে, বর্তমানে মাত্র ১৫% এনজিও ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য তাদের ডিড আপডেট রাখে। বাকিরা পুরনো ডিড নিয়ে চলে। একদিন হঠাৎ করে সরকারি নির্দেশ এলে তারা হিমশিম খায়। উদাহরণ দিই, ২০২২ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর হঠাৎ করে জেন্ডার নীতি যুক্ত করার নির্দেশ দেয়। যাদের ডিডে জেন্ডার শব্দ ছিল না, তাদের প্রকল্প আটকে যায়। তাই আজই আপনার ডিডে ৫টি ভবিষ্যৎ ক্ষেত্র যোগ করে ফেলুন জলবায়ু, ডিজিটাল, জেন্ডার, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ।
এখন সময় সাশ্রয়ের জন্য একটি মডেল টেমপ্লেট ব্যবহার করতে পারেন। আমি একটি কেস স্টাডি দেখেছি ঢাকার একটি এনজিও ২০২৩ সালে ট্রাস্টে রূপান্তরিত হয়। তাদের খরচ হয়েছিল ৮০,০০০ টাকা, কিন্তু ১ বছরের মধ্যেই তারা ৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পেয়ে যায়। কারণ ট্রাস্ট ডিড দাতাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, একটি সোসাইটি ২০২৪ সালে কমিটি পরিবর্তনের কারণে ২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতছাড়া করে।
শেষ কথা
দীর্ঘ আলোচনার শেষে আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই আইন কখনোই একপেশে নয়। সোসাইটি ও ট্রাস্ট উভয়েরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। আপনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আপনার এনজিওর আকার, ফান্ডের ধরন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের ওপর। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
আমার পরামর্শ, আজই আপনার এনজিওর জন্য একটি ফ্লোচার্ট তৈরি করুন ৫ বছর পর কেমন হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। মনে রাখবেন, সময় নিয়ে সঠিক পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো যাবে না। শেষ পর্যন্ত, আপনার এনজিওর সাফল্য নির্ভর করে সঠিক তথ্য ও সময়মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর।





Leave a Reply